প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে খুশি কচুয়ার ১৭ পরিবার, চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাকা ঘরে বসবাস করতে পেরে খুশি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১৭টি পরিবার। যাদের আগে ছিল না নিজের জমি কিংবা ঘর-বাড়ি। তাদের কেউ থাকতেন অন্যের বাড়িতে আবার কেউবা থাকতেন ভাড়া বাসায়। স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়ায় যা ছিল তাদের জন্য খুবই কষ্টকর। উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে সুচারুরূপে ঘরগুলো নির্মাণের পর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের মাধ্যমে ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করেন অসহায় ওই পরিবারগুলো। বর্তমানে তারা সেখানে সুখে-শান্তিতেই বসবাস করছেন। আগে এ পরিবারগুলো একে অপরকে ঠিকমতো না চিনলেও এখন তারা যেন একে অপরের খুবই আপন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বলছেন, ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ভালো হয়েছে। এখানে তাদের কোন সমস্যা নেই। তবে এখন দরকার কর্মসংস্থানের সুযোগ।

পাখির চোখে কচুয়ার বজরীখলা আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো।

উপজেলা সূত্র জানায়, আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার এই স্লোগানে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের অন্যান্য উপজেলার ন্যায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে চাঁদপুরের কচুয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা বজরীখলা গ্রামে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে ১৫টি পরিবারকে ৩৫ শতাংশ ভূমির উপর নির্মাণ করেন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে কাদলা ইউনিয়নে দেবীপুর গ্রামে ২টি ঘরে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।
উপকারভোগী পরিবারগুলো হচ্ছে : কামাল হোসেন, মনি আক্তার, রহিমা বেগম, রাবেয়া বেগম, ইউসুফ মিয়া, রাজিয়া খাতুন, সফিক মিয়া, মকবুল হোসেন, বাদশা মিয়া, সুমি আক্তার, সুমি বেগম, আমির হোসেন, রুহুল আমিন, বিল্লাল হোসেন ও শ্যামল চন্দ্র মন্ডল।

নির্মাণ কাজ ভালো হওয়ায় ঘরে থেকে খুশি তিনি

কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের বজরীখলা ও কাদলা ইউনিয়নের দেবীপুর আশ্রায়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেলো, নতুন নির্মাণ করা আধা পাকা ঘরগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। সদ্য রং লাগানোয় চকচক করছে। দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, টিউবয়েলসহ বসবাসের সকল সুবিধা। এতে করে গত ৬ মাস ধরে স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে সুখেই আছেন ঘরপ্রাপ্তরা। বাড়ির আঙিনায় অনেকেই লাগিয়েছেন ফলের গাছ। সবমিলে তারা এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের অভ্যন্তরে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে তুলছেন।

‌দু’ দিন আগে আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে গাছ বিতরণ করেন ইউএনও দীপায়ন দাস শুভ।

ঘরপ্রাপ্ত বৃদ্ধা রাবেয়া বলেন, আগে মাইনসের বাড়ি-ঘরে থাকছি। বিভিন্ন সময় মাইনসে থালা-বাটি, খেতা-বালিস উরাইয়া হলাইয়া দিছে। আবার বেহায়ার মতো সেগুলা তুইলা নিয়ে থাকছি। আমার অবস্থা জেনে স্থানীয় মেম্বারের সহযোগিতায় ঘরের জন্য আবেদন করি। পরে উপজেলার অফিসার মাধ্যমে আমাগো প্রধানমন্ত্রীর উপহার জায়গা ও ঘর পাইছি। অহন আমরা এখানে সুখে শান্তিতে আছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি।


বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার কোন জায়গা বা ঘর ছিল না। পরিবার নিয়ে খুবই অসহায় ছিলাম। ঠিক সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই শতাংশ জায়গাসহ ঘর দিয়েছেন। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
রাজিয়া খাতুন বলেন, আমরা খুবই নিরীহ ছিলাম। ঘর-বাড়ি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে যে ঘর দিয়েছেন তার নির্মাণ কাজ খুবই ভালো হয়েছে। এখন আমরা এখানে ভালো আছি।

ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জায়গাসহ ঘর পাইছি। বিভিন্ন সময় রিলিফও পাই। এখন আমাদের একটা কর্মসংস্থানের দরকার। উপজেলা থেকে স্যারের আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন, কাজের সুযোগ করে দিবেন। তার ধারাবাহিকতায় এখানে একটা পুকুর আছে সেই পুকুরে মাছচাষ করার জন্য তারা বলেছেন। মাছের পোণাও দিবেন। মহিলাদেরকে সেলাই মেশিন দিবেন। মোটকথা যে যে কাজ করতে অভ্যস্ত তাকে সে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিবেন।

কচুয়ার বজরীখলা আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।-ফাইল ছবি

সুবিধাভোগি আমির হোসেন বলেন, আমরা ভূমিহীন ছিলাম। আমাদের কোন জায়গা-জমি ছিলনা। খোলা আকাশের নিচে ছিলাম। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে জায়গা, ঘর, আর্সেনিকমুক্ত টিউবয়েল, বিদ্যুৎ দিয়েছেন। উপজেলার অফিসাররাও ঘরগুলো সঠিকভাবে নির্মাণে আন্তরিক ছিলেন। এ কারণে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ূ কামনা করি।

‌দু’ দিন আগে আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে গাছ বিতরণ করেন ইউএনও দীপায়ন দাস শুভ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ণ দাস শুভ বলেন, ‘আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ মুজিববর্ষে এই শ্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বজরীখোলা গ্রামে খাস জমিতে গৃহহীন, ভূমিহীন ও ছিন্নমূল পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ঘরগুলো নির্মিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি পরিবারকে আবাসন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২টি সরকারি ঘর প্রদান করা হয়। এখানে পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি ভূমিহীন এবং গৃহহীনদের। এ কাজে সর্বোৎভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সকলের সহযোগিতায় আমরা উপকারভোগী বাছাই করি। উপকারভোগী বাছাইয়ের পর আমরা তাদেরকে বলেছি- আমরা এখানে ঘরগুলো নির্মাণ করবো, এখানে থাকতে হবে। যখন তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে- তখন আমরা ঘরগুলোর কাজ শুরু করি। ঘর নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি রয়েছে।
তিনি বলেন, ঘরগুলোর কাজ যতদিন চলমান ছিলো প্রায় প্রতিদিনই আমরা সকলেই নিয়মিত কাজগুলো পরিদর্শন করেছি। সঠিকভাবে তদারকির মাধ্যমে সর্বোচ্চ গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে ঘরগুলোর কাজ সম্পাদন করতে। কারণ আমরা প্রথমেই ধরে নিয়েছি, এই প্রকল্পটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি আবেগের প্রকল্প। আমরা সেই আবেগকে মননে এবং চেতনায় ধারণ করে আমরা ঘরগুলো কাজটি সম্পন্ন করেছি।
তিনি বলেন, এখানে যেসকল অসহায়, গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা এখানে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাধ্যমে সমিতি গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আগ্রহীদেরকে দু’ জন করে কৃষির উপরে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এখানে উদ্যোমী যুবক ও নারীদের যুব উন্নয়ন কর্তৃক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহজশর্তে ঋণ প্রদান করে তাদেরকে স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.