প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনায় দেশের সকল সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আশিক বিন রহীম :
শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় বিশেষ সম্মানিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শামসুল আলম।
তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদাশালী রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনায় দেশের সকল সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। এটিকে চলমান রাখতে হলে নৌকার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয় অব্যহত থাকবে। আমাদের মাথা পিছু আয় সারা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচাইতে বেশী ২হাজার ২শ ২৮ টাকা। ভারতের হলো ২১শ’ ৫৭ টাকা। পাকিস্তানে ১৫শ’ ৫৬ টাকা। শুধু মাথাপিছু আয়ই নয়, শিশু ও মাতৃমৃত্যু অনেক কমেছে আমাদের দেশে। নারী ক্ষমতায়নের দিক থেকে আমরা বিশ্বে ৫০তম ১৯০ দেশের মধ্যে। ভারতের মত দেশ রেঙ্কের দিক থেকে ৯৭তম ও পাকিস্তান ১১২তম। ক্ষমতায়নে আমরা প্রচুর এগিয়েছি। দেশ অনেক এগিয়েছে। আওয়ামী লীগের হাতে থাকলে দেশ এগিয়ে যায় এবং বিশ্ব মঞ্চে স্থান করে নেয় এটা আপনারা জানেন। নিউ ইয়র্ক টাইম থেকে শুরু করে দি ইকোনমিস্ট ও বিভিন্ন গবষেণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে প্রশংসার চোখে দেখছে। শুধুমাত্র আমাদের সফলতা দেখে না বিরোধী দল।
তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সোডাউন কেন করব। সোডাউন হচ্ছে আত্মপ্রচারণমূলক। এতে কেন মোটর সাইকেল ব্যবহার করব। গেট কতটি বানালাম সেটি আমরা কেন করব। আওয়ামী লীগের এজেন্ডারতো অভাব নেই। কথা বলার অভাব নেই। সরকারের উন্নয়নের চিত্রগুলো প্রচার করুন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কারণে। আপনাদের কারণে। এ সরকার ব্যবসায়ীদের সবচাইতে বেশী সুযোগ দিয়েছে। আমরা স্বাধীনতা যখন লাভ করি, তখন সরকার ৮৭ ভাগ বিনিয়োগ করত। বাকি বিনিয়োগ ছিলো বেসরকারি। আর এখন ৮১ ভাগ বিনিয়োগ করে বেসরকারি খাত বাকী ১৯ভাগ বিনিয়োগ আসে সরকার থেকে। এটি করা হয়েছে যাতে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সাল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর দেশকে পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিচ্ছেন। সে পরিকল্পনা হচ্ছে, প্রত্যেক বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি কি পরিমাণ বাড়বে, প্রত্যেক বছর আমাদের দেশে কত কর্মসংস্থান তৈরী হবে, আমাদের মূল্যস্ফীতি কত থাকবে সারাদেশে। আমাদের প্রত্যেক বছরের হিসাব আছে।
শামসুল আলম বলেন, ২০১০ সালে আমরা যখন রূপকল্প ২০-২১ করি, তখনই মানীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হব। সেটি হয়েছে ২০১৫ এর মধ্যে। তিনি যখন ২০১০ এ নির্বাচনে রূপকল্প দিয়েছিলেন সেটি আমরা ২০০৮ এ দীর্ঘ মানের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সেখানে বলাছিলো মধ্যম আয়ের দেশ হব, হয়েছি। খাদ্য সংশোধন হব, প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ নিশ্চিত, মাধ্যমিক নারী শিক্ষায় সমতা হবে এসব হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলা, জলবায়ু, বন্যা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদিসহ আমরা শত বছরের পরিকল্পনা করেছি। ২০২১ এ আমরা কোথায় যাব, সেটি আমরা স্থির করেছিলাম এখন পৌঁছেছি। ২০৪১ এ আমরা ধনি দেশ হব। তখন আমাদের মাথা পিছু আয় ১২ হাজার ৫শ’ থাকবে। ২০৩১ সালে আমাদের হত দরিদ্র থাকবে না। ২০৪১ সালে কোন দরিদ্র ও হত দরিদ্র কোনটাই থাকবে না। এভাবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৮ ঘন্টা কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আজকে যে তৃণমূল প্রতিনিধি সভা হচ্ছে। এটি দেখে আমি খুবই আনন্দিত। আমি চাইব, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাতে করে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেন। তাহলে নতুন করে কাজের গতি বাড়বে এবং আগামীতে আমাদের সরকার আবারও জয়লাভ করবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *