মতলবে বাল্য বিবাহসহ নানান কারণে স্কুলে ফেরেনি ৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ৫ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থী নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরেনি। করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থসংকট ও বাল্যবিবাহের মতো নানান সমস্যার কারণে এসব শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরেনি বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম খান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এই উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে উচ্চবিদ্যালয় ২৯টি, কলেজ ৪টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভর্তি ও উত্তীর্ণ হয় ১৪ হাজার ৮০৯ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে ৩ হাজার ১০২ জন। ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি হওয়া এবং এসএসসির ফরম পূরণ করা মোট শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ৯১১ জন।
জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ওই সময় থেকে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির এবং এসএসসির ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্লাস করছে ১৩ হাজার ৬৪৩ জন। ৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ক্লাসে ফেরেনি।
বিদ্যালয়গুলোর ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮০৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্লাসে ফেরেনি ৫ হাজার ১৫৫ জন। এ ছাড়া অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করা ৭১৩ শিক্ষার্থী ক্লাস করছে না। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ওই ২৯ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ছিল ১৬ হাজার ৭৩৭ জন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৪৮৫ জন।
মতলব সরকারি জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন, এবার এসএসসি দেওয়ার কথা থাকলেও ফরম পূরণ করিনি। বাবার হাতে টাকা নাই তাই করতে পারিনি।
নারায়ণপুর পপুলার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ক্লাসে আসার জন্য সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এরপরও অনেকে ক্লাসে আসছে না।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রহিম খান বলেন, সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকেরাও এ ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরপরও অনেকে ক্লাসে আসছে না। তবে বাল্যবিবাহের কারণে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *