শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে : শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুর মুক্ত দিবসে আউটার স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন
: অভিজিত রায় :
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে দেশ এগিয়ে চলেছে আমরা চাই দেশে সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। সেজন্য আমাদেরকে সব অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের অপকর্ম করছে। যারা বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যেখানে এই নির্বাচনগুলোতে মানুষ বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করেছে, ভোট দিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু আছে। পৃথিবীর কোন গণতন্ত্রই একেবারে নিঁখুত নয়। চলতে চলতে যত খুত থাকে সেগুলোকে দুর করতে করতেই এগিয়ে যেতে হয়। আমাদেরও যেখানে সমস্যা আছে তা সমাধান করার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাবো।
বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের ফল আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল বীর সেনানীদের আত্বত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, এ বিজয় মেলা থেকে সকলের প্রতি আহবান জানাবো, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন কর এগিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে ৩ বছরে জাতির পিতা দেশকে একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। দেশটি যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, যখন সোনার বাংলা গড়ার সব পথরেখা তিনি তৈরি করে দিয়েছিলেন তখনই তাকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকারীরা ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং তাদের দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের দোষররা। একাত্তর এবং পচাত্তরের হত্যাকারীরা বসে নেই। তারা ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সমগ্র আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যা করেছিল। তারা ২০১৩-২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশের দু’শরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল। অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে। তারাই আজাও নানা চেহারায় নানাভাবে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যখনই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে থেকেছি, যখনই আমরা মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শ অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক গড়ার জন্য কাজ করেছি তখনই এদেশ এগিয়ে গেছে। স্বাধীনতার এই ৫০ বছরে ২১ বছরের কিছু বেশি সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
দীপু মনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্ব বিস্মিত হয়ে দেখছে কি করে বাংলাদেশ এতো উন্নয়ন করছে। অথচ ২৮টি বছর আমাদের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা নিধন করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সব জায়গা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, অপমানিত করা হয়েছে। আর যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে শহীদের রক্তেরঞ্জিত পতাকা তুলে দেয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে, সমাজে, রাষ্ট্রে পুনর্বাসিত করা শুধু হয়নি তাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে। আপনি একজন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারেন তাকে সম্মানিত করে আপনি অন্যদেরকে অপমানিত করতে পারেন না। সে কাজটি বিভিন্ন সরকার করেছে বিভিন্ন সময়ে। কাজেই আমরা আর পেছনে যেতে চাই না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যে অপশক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তাদেরকে রুখে দাড়াতে হবে। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে রেখে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয়। আসুন উন্নত সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অরাজকতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করে। সকল ধর্ম বর্ন, দল ও গোত্রের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কিছুদিন আগেও আপনারা দেখেছেন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কিভাবে দেশ অস্থিতীশীল করেছিল। তাই সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টার বিজয় মেলাকে প্রতিবছর আরো সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। বিজয়মেলা সাড়ম্বরে চলবে তবে আপনার সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় মেলায় আসবেন। মাস্ক পরে মেলায় আসতে হবে।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্ট্রিয়ারিং কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও বিজয় মেলা ২০২১ এর উদ্বোধক ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব হারুন আল রশিদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মঈনুল হাসান, বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ইয়াকুব আলী মাস্টার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামন কিরন, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শহীদ পাটওয়ারী, উদযাপন পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইয়েদুর রহমান বাবু, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক আহসান উল্লা, সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হুমায়ন কবির সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল মোতালেব, সভাপতি জহির উদ্দিন মিজি, বিজয় মেলার সাংস্কৃতিক পরিষদের আহবায়ক তপন সরকার, মিডিয়া পরিষদের সদস্য সচিব কে এম মাসুদ মাঠ ও মঞ্চ পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আমির উদ্দিন মন্টু সদস্য সচিব মানিক দাস, স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক মনির হোসেন মান্না, সদস্য সচিব অভিজিত রায়সহ বিজয় মেলার সাথে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দ, রাজনৈর্তিক, সাংস্কৃতিক ও সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.