সরকারি খালের উপর অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। সভার শুরুতেই বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ, সিদ্ধান্ত এবং অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন। পরে পঠিত কার্যবিবরণীর উপর উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত সকলের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

মহান স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ ও লালন করে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আওতাধীন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পর্যালোচনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, চলতি মার্চ মাসটি আমাদের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে যা আমাদের সুন্দরভাবে করছি । এ ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মাসের বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বাষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী মেলা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে আমরা বাজার মনিটরিং করছি। তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করে রাখতে পারে। তাই রোজা উপলক্ষে আমরা সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুরে সরকার ১ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের মাঝে টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা শুরু হয়েছে। পবিত্র রমজানে ইফতার-সেহেরী-নামাজের সময় বিদ্যুতের লোড শের্ডিং যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু আমরা জেলার উন্নয়ন করতে চাচ্ছি অবশ্যই আমরা আমাদের প্রত্যেকটি কাজ প্রকাশ্যে সবাইকে নিয়ে করবো। যাতে তার ভিতরে জবাবদিহিতা থাকে।
জাটকা ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন,জাটকা রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জাটকা ধরার সাথে যারা সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নদীপাড়ের জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করলে জাটকা নিধন অনেকাংশে কমবে। নদীর পাড়ের কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বছরের পর বছর। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নদীপাড়ে খাল তৈরি ও বাজার বসিয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। নদী রক্ষা কমিটির সাথে আলোচনা সভা করা হবে। সরকারি খালের উপর অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় এ নিয়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী জোরালো বক্তব্য রাখেন, সরকার দলীয় জেলার এই দু’ শীর্ষ নেতা বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন করে নদী এবং ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে, শহর বা চাঁদপুর রক্ষায় কোন স্থায়ী প্রকল্প নিলেও তা টিকবে না। আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী এ প্রসঙ্গে বলেন, সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার যে স্থায়ী প্রকল্প আপনারা পানি উন্নয়ন বোর্ড, তারা যেন আরো দেখেশুনে তা নেন। কারণ এটি একটি বৃহৎ প্রকল্প, তা যেন ভুলের কারনে জলে না যায়।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল,স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান , হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ:স:ম: মাহবুব-উল আলম, এলডিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সামসুজ্জোহা, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, পাউবো কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক শরিফুল ইসলাম , পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হান্নান, জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ চৌধুরী, ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন রুবেল, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় জেলার সকল সংস্থা/দপ্তরসমূহের প্রধানগণসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, ইমারত-রাস্তাঘাট-সেতু নির্মানে রড় /সিমেন্টসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের কাজ ব্যহত হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.