হাজীগঞ্জে পৃথক স্থানে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সুমাইয়া আক্তার (৭) ও মোহাম্মদ হোসেন (২০ মাস) নামের দুই শিশু পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। ৩১ জুলাই রোববার দুপুরে উপজেলার হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের সুবিদপুর উত্তর পাড়া রফিকুল ইসলাম মজুদারের বাড়ির পাশে পুকুরে পানিতে ডুবে সুমাইয়া আক্তার মারা যায়।
সুমাইয়া আক্তার সিলেট জেলার মোহাম্মদ রুমনের মেয়ে। প্রায় তিন বছর পূর্বে তার বাবা ও মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কারণে সুমাইয়া নানার বাড়ি সুবিদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন বেপারি বাড়িতে বসবাস করতো। অপর দিকে একই দিন বিকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের সুলতান সর্দার বাড়ির মো. শরিফ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়।
জানা গেছে, এদিন দুপুরে সুবিদপুর উত্তর পাড়া মজুমদার বাড়ির পাশের পুকুরে সমবয়সি তানজিনা, জান্নাত ও সিয়ামসহ অন্যান্য ছেলে ও মেয়েদের সাথে শাপলা তুলতে যায় সুমাইয়া আক্তার। এরপর সে পুকুরের পানিতে ডুবে গেলে স্থানীয়রা সুমাইয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে খুঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এর আগে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিকে ফোন দেন। খবর পেয়ে নৌ-ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের ডুবুরি দলের সদস্য রাজিব হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় শিশু সুমাইয়া আক্তারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সূত্রে জানা গেছে।
অপর দিকে একই দিন বিকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় গ্রামের সুলতান সর্দার বাড়ির শিশু মোহাম্মদ হোসেন পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। শিশুটি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে নিজ বাড়ির পুকুরে থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎস শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাড়ির সম্পর্কে চাচা রাজন সর্দার জানান, খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইউনুস শিশুটির মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নেয়। পরে নিহতের পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
অপর শিশু সুমাইয়া আক্তারের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু মো. সাজেদুল কবির যোয়ার্দার জানান, আমাদের সহযোগিতায় চাঁদপুর নৌ-ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি রাজিব হোসেন প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় শিশু সুমাইয়া আক্তারকে মৃত অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, শিশু মোহাম্মদ হোসেনকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। এ সময় তিনি বলেন, এখন বর্ষাকাল। চারদিকে পানি আর পানি। তাই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে পারিবারিক সচেতনা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, শিশু সুমাইয়া আক্তার যে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে, ওই পুকুরটি অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে খনন করা হয়েছে। তৎকালীন হাজীগঞ্জ উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার ব্যবসায়ী ও জমির মালিককে জরিমানা করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.