হাজীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজে পাঠদান শুরু

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
উৎসবমুখর পরিবেশে হাজীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সকালে ১০টায় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, বলাখাল জে এন স্কুল এন্ড কলেজ, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বরণের আয়োজন ছিল একেবারেই অন্যরকম। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া, তাপামাত্রা মাপা, স্যানিটাইজ করার পর প্রবেশ করানো হয়।
এ ধরনের আয়োজনে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। করোনা মহামারির কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ক্লাস শুরুর প্রথমদিনে শিক্ষার্থীরা সকাল ১০ টায় থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের জন্য নির্ধারিত ড্রেস পরে স্কুলে ভিড় জমান। দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে বন্ধুদের পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতেছেন। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর প্রথমদিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন।
সকাল ১০ টায় থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের জন্য নির্ধারিত ড্রেস পরে স্কুলে আসতে শুরু করে। করোনা মহামারির কারণে অ্যাসেম্বলি না থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে একজনের পর একজন করে শিক্ষার্থী স্কুলের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে। এদিন অনেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও এসেছেন।
প্রবেশপথে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মাস্ক পরেছে কিনা তা যাচাই করে স্কুলে প্রবেশ করান। সকাল সাড়ে ১০টায় ঘণ্টা বাজিয়ে ক্লাস শুরু হয়। শ্রেণি শিক্ষকরা ক্লাসে এসে প্রথমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রোল কল করেন। এরপর যথারীতি পাঠদান শুরু হয়।
দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুলে আসতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, তা নিয়েও তাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। রান্ধুনীমূড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সিমা আক্তার জানায়, এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ভয় পাচ্ছি। কিন্তুু এত দিন পরে বন্ধুদের দেখে আমি খুবই আনন্দিত।
স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার তেমন চাপ ছিল না। ক্লাসের পড়া মুখস্ত করে যেতে হবে এমন কোনও বাড়তি চাপ ছিল না। তবে আবারও শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করতে পেরে খুবই খুশি তারা।
হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল খুলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া, তাপামাত্রা মাপা,স্যানিটাইজ করার পর স্কুলে প্রবেশ করানো হয়েছে। এরআগে গোটা স্কুল ক্যাম্পাস, ক্লাস রুম, বাচ্চাদের কমন রুম, টয়লেট- সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ক্লাস রুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিক্ষকরাও খুব খুশি স্কুল খুলতে পেরে। আশা করছি, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবো। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.