হাজীগঞ্জ রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় নতুন ভবনের উদ্বোধন

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
হাজীগঞ্জ পৌরসভা ১১ নং ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।
২১ মে শনিবার বিকেলে রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ৪ তলা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।
ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের গভর্নিংবডির সভাপতি মুন্সী মোহাম্মদ মনিরের সভাপতিত্বে ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলাকে সমন্বিত উন্নয়ন করা হবে। সারাদেশে ৩’শটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টি আসনকে এ সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের সৌভাগ্য চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসনের হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলাও রয়েছে।
২১ মে শনিবার বিকেলে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪তলা ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সমন্বিত উন্নয়নে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলাকে ড্রোনের মাধ্যমে উন্নয়ন ম্যাপ করা হবে। এ ম্যাপের মাধ্যমে সকল উন্নয়ন সমন্বিত হবে। কোন রাস্তা ঘাট কাঁচা থাকবেনা। কোন স্কুলে ভবন নেই, কোন নদী বা খালে ব্রীজ বা কাভার্ট লাগবে সেই ম্যাপ দ্বারা বুঝা যাবে। এতে সমন্বিত বা সুষম উন্নয়ন সম্ভব হবে। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিবাসি এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য আমাদের সকল উন্নয়ন। এ নতুন প্রজন্মই গড়ে তুলবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

মেজর রফিক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে শুধু নতুন প্রজন্মের জন্য। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ।

হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির উন্নয়ণের বিষয়ে তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলায় ব্যাপক হারে উন্নয়ন হয়েছে। যা অতিতের কোন সরকার করতে পারেনি। তারা যদি কিছু কাজও করতো, তাহলে আমাদের উপর এতো চাপ-সৃষ্টি হতো না।

তিনি বলেন, আমি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলায় মাত্র ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক পেয়েছি। এখন এ দু’উপজেলায় সাড়ে ৩’শ কিলোমিটার পাকা সড় রয়েছে। ডাকাতিয়া নদীর উপর ৮টি সেতু, দুই উপজেলায় ৭ শতাধিক ব্রীজ-কালর্ভাট, সাড়ে ৬ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় এ বছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও অসম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে। আমরা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করেছি। দুই উপজেলায় কারো প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হয়রানি করা হয়নি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, পৌর মেয়র আ স ম মাহবুব-উল আলম লিপন, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রোটা. আহসান হাবিব অরুন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সৈয়দ আহম্মদ খসরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান হাজী জসিমউদ্দিন, এলাকাবাসির পক্ষে অধ্যাপক সেলিম, ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম মজুমদার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.