আজ চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

এ ক্লাবের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে : পিপি রোঃ মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল


যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সূবর্ণ জয়ন্তী একটি গৌরবোজ্জ্বল মূহূর্ত। এক এক করে ৫০ টি বছরেরর পথপরিক্রমায় সাফল্য-ব্যর্থতার মানদন্ডে প্রাণবন্ত ও দেদীপ্যমান হয়ে উঠে এর গৌরবেজ্জ্বল বর্ণিল আভা। আর এর সৃষ্টি যাদের হাত ধরে তারা স্থান করে নেয় ইতিহাসের পাতায় অমর কীর্তি হিসেবে। আজকের এই শুভ ক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই সব মহিমান্বিত অমর ব্যক্তিবর্গের যাদের ৫০ বছর পূর্বের একটি একটি ভাল কাজ আজ মহীরুহে আমাদের সামনে জ¦ল জ¦ল করে সেবার দীপ্তি ছড়াচ্ছে সারা জেলাময়, এমনকি জেলার বাইরেও এর নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই এই মহেন্দ্র ক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি চাঁদপুরের রোটারীর পথিকৃৎ চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের চার্টার প্রেসিডেন্ট প্রয়াত ডা. নুরুর রহমান, চার্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এম এ গফুর, চাটার্টর সেক্রেটারী অধ্যাপক জালাল ইউ আহমেদ ও বর্তমানে একমাত্র জীবিত চার্টার সদস্য এম এ মাসুদ ভ‚ইঁয়াকে যাদের সৃষ্টি আজকের এই মিলনমেলার প্রধান উপকরণ। এর পাশপাশি চাঁদগপুরের রোটারী অঙ্গনের শ্রদ্ধেয় রোটারিয়ানবৃন্দ বিশেষ করে অঅমার রোটার‌্যাক্টও সময়কালে যাদের পরম ¯েœহ ও সহানুভ‚তি আমাকে রোট্যাাক্ট আন্দোলনে সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত করেছে, তাদের মধ্যে প্রয়াত রোটারিয়ান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, প্রয়াত রোটারিয়ান এডভোকেট এবিএম মনোয়ারউল্ল্যাহ, রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, মরহুম রোটারিয়ান মোশতাক হায়দার চৌধূরী, মরহুম রোটারিয়ান ডা. এ কিউ এম রুহুল আমিন, রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, মরহুম রোটারিয়ান রশিদ আহমেদ, রোটারিয়ান শাহ মোঃ আবদুল কুদ্দুস,রোটারিয়ান একেএম মজিবুর রহমান স্বপন, রোটারিয়ান অধ্যাপক দেলোয়ার আহমেদ,রোটারিয়ান আল হাজ¦ এম এ বারী, মরহুম রোটারিয়ান ডা. আবুল খায়ের গোলদার. সেই সাথে আরো শ্রদ্ধাজানাই চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের চার্টার সভাপতি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রয়াত অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ, চাটার্টর সহসভাপতি জনাব ফিরোজ আহমেদ ও চার্টার সেক্রেটারী জনাব এ কে এম শফিকুল ইসলাম, চার্টার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বেদন, আবুল কালাম আজাদ, প্রয়াত দেওয়ান হযরত আলী ,প্রয়াত হর্ষকুমার ওয়াস্তি, এবং পরবর্তীতে ক্লাবের নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর, এ এফএম এমরানুল হাসান কাঞ্চন, এ রহমান নাসিম এবং বন্দুবর আমিন আহমেদ, গোলাম মূর্তজা চৌধুরী আপেল, মাহাবুবুর রহমান টিপু, কামূজ্জ¥ান মূন্ণা, মোঃ মোস্তফাসহ (ফুলমিয়া) অন্যান্য সদস্যবৃন্দকে। তাদের াসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বর্তমানে চাঁদপুরে ৭টি রোটারী ক্রাব, ৬টি রোটার‌্যাক্ট ক্লাব ও ২টি ইন্টার‌্যাক্ট ক্লাব সক্রিয় আছে। চাঁদপুরকে বলা হয় রোটারী শহর।
সময়টা ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ। ক্যালেন্ডারের হেসেবে আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগের এমনি একদিনে হাজী মহসীন রোডে বন্ধু মাহামুদের বাসার সামনে দাড়িয়ে আমরা ৬ বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় পাশের বাসা থেকে বেড়িয়ে আসলেন আমাদের আর এক বন্ধু শিমু’র বড় ভাই এ এফ এম এমরানুল হাসান কাঞ্চন ভাই। হিনি তখন চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সভাপতির ( ১৯৮৫-৮৬) দায়িত্ব পালন কছিলেন। তিনি আমাদের সিলেট রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের স্বাগতিকতায় রোটার‌্যাক্ট জেলা -৩২৮০ এর জোন -৫ এর আঞ্চলিক বনভোজনে সিলেটের জাফলং ও তামামবিল ভ্রমনের আমন্ত্রণ জানালেন। আমরা তখণ সদ্য এসএসসি পাশ করে চাঁদপুরসরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছি। এসএস সি’র পর কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তাই আমিন, মাহামুদ, রাজু (প্রয়াত), মাইনু সমীর ও আমি কাঞ্চন ভাইয়ের আমন্ত্রণে রাজী হয়ে যাই। ৩ রা ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় আমরা ২০-২২ সদসস্যের একটি দল প্রথমে লোকাল টে্েরনে চাঁদপুর থেকে লাকসাম এবং সেখান থেকে পাহাড়িকা এ´প্রেসে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। আমাদের সাথে কুমিল্লা থেকে যোগ দেন জোন – ৫ এর জেড আর অত্যন্ত বিনয়ী ও সদালাপী রোটার‌্যাক্ট অংগনের প্রিয় মুখ আবু আজমল পাঠান। পরদিন আমরা জাফলং ও তামামবিল ভ্রমন করি। ঢাকা থেকেও রোটার‌্যাক্টদের একটি বড় দল এ ভ্রমনে অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহ রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের রোঃ ডা. আহমেদ নেওয়াজ খান সেলাল, ডা. এ জেড এম জাহিদ হেসেন (বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য),রোঃ রুমি, রোঃ মোহাম্মদ আলী বোখারী প্রিন্স তাদের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য রোটার‌্যাক্টের মূল আাদর্শ ও উদ্দেশ্য “সেবার মাধ্যমে বন্ধুত্ব” এটিই মূলতঃ আমাদের ৬ বন্ধুকে জীবনের প্রথম মানবিক মানুষ হতে ্এবং সমাজআর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে এবং সুযোগ তৈরী করে দেয় এবং আমরা ফিরে এসে চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবে যোগ দেই। সেই থেকেই শুরু হল চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ততা যা আজো প্রত্যক্ষ ও পরেক্ষভাবে মনে প্রাণে মিশে আছে।
কৈশোর উত্তীর্ন হয়ে তারুরন্যের উদ্যমতা নিয়ে রোটারীর আর্ত মানবতার সেবায় মনোনিবেশ করে নিবেদিত প্রাণ এক কর্মী হয়ে দেশব্যপী সেবার মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরী করতে সক্ষম হই। এরপর একে একে অনেক কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিবেদিত করি। তখন প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের টিন শেডে ক্লাব মিটিং হত। যেহেতু আমরা বেশীরভাগই ছাত্র ছিলাম তাই আমাদের জন্য সন্ধ্যার পর বাসার বাইরে থাকার নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা নিয়মিত সভায় উপস্থিত হতে পারতাম না। পরে আমাদের প্রস্তাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরিবর্তন করে ক্লাব সভার সময় নির্ধারন করা হয় শুক্রবার সকাল ১০টা, যা আজো চলমান।
১৯৮৭ সালে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে জেলা হাসপাতালে বøাড ব্যাংক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক। উদ্বোধন শেষে সবাই অপেক্ষমান রক্তদানের মাধ্য মে এ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। কোন ডোনার পাওয়া যাচ্ছিল না। ডা. নুরুর রহমান সাহেবকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল। আমি ভয়ে ভয়ে ওনার কাছে জানতে চাইলাম চিন্তার কারনটা কি? তিনি বললেন, দেখ বøাড ব্যাংক উদ্বোধন করা হয়ে গেছে অথচ বøাড ডোনার পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমি অভয় দিয়ে বললাম যে, আমিই রক্ত দিব। তখন ডা. নুরুর রহমান আমাকে জড়িয়ে ধরে মাসুদ ভ‚ইঁয়া ভাইকে বললেন, মাসুদ বøাড ডোনার পাওয়া গেছে, আমাদের কাজল রক্ত দিবে। সেই থেকে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে বøাড ব্যাংকের যাত্রা শুরুহয়। সেই ছবি অবশ্য বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকাসহ রোটারী ইন্টারন্যাশনালের মাসিক মুখপাত্র ‘দি রোটারিয়ান’ এ ফলাও করে ছাপা হয়, যা আমাকে রোটারীর কাজে আরো বেশী উৎসাহিতও অরুপ্রাণিত করে। তখন থেকেই নিয়মিতভাবে রোটারী দাতব্য চিকিৎসালয়ে ভোলান্টারী সার্ভিস দিতাম। পাশপাশি বিভিন্ন স্কুলে দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা, চক্ষুশিবির আয়োজন এবং বন্যার সময় ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতাম। ১৯৮৭ সালে একবার চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে হাইম চরের দূর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরনের কর্মসূচী নেওয়া হয়। আমরা লঞ্চ যোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ হাইম চর যাই। মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এ ত্রাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি সড়ক পথে চলে অঅসেন। আমরা ত্রান বিতরণ শেষ করে সন্ধ্যায় হাইমচর থেকে রওয়ানা দেই। পথিমধ্যে সিংহের চর নামক স্থানে আমাদের লঞ্চ নস্ট হয়ে যায়। নদীর মাঝখানে অথৈ পানির ঢেউ এবং তীব্র স্্েরাতের তোড়ে লঞ্চ নোঙর করতে খুব বেগ পেতে হচ্ছিল সারেংকে। আমরা ভীত হয়ে পড়ি। পরে পিপি হুমায়ুন কবির স্যার , প্রেসিডেন্ট এ রহমান নাসিম ভাই, রোটা. ডা. শহীদুল্লাহ ভাই সহ একটি ছোট নৌকা করে আমরা বাংলাবাজার নামক লঞ্চ স্টেশনে এসে আরেকাট লঞ্চ নিয়ে গিয়ে পুরো টিম সহ গভীর রাতে চাঁদপুর ফিরে আসি। এমনিভাবে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগীতায় ও IPAC এর আর্থিক প্রষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে ১০-১২ টি চক্ষু শিবির াঅয়োজনে আমরা রোটার‌্যাক্টররা অভিভাবক রোটারী ক্লাবকে সহায়তা করতাম। পাশাপাশি যুব কার্যক্রম মাস ’সেপ্টেম্বর ও ভকেশনাল মাস ’অক্টোবর উদযাপনে অভিভাবক রোটারী ক্লাবকে সার্বিক সহায়তা করতাম । এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন, গাড়ীর হেডলাইট রং করন, পথচারীকে জেব্রা ক্রশিং দিয়ে পার হতে সচেতনতা মূলক কার্য ক্রম, বৃক্ষরোপন কর্মসূচী,বøাড ডোনেশেন, রোড ডিভাইডার হাইলইট করাসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হত। এর পাশপাশি রোটারীর গৃহীত কর্মসূচীগুল বাস্তবায়নে আমাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
এসময়ের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মহিলা রোটার‌্যাক্টর সদস্য অন্তর্ভূক্তি। পি পি এ রহমান নাসিম ভাইয়ের সময়েই চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম মহিলা সদস্য অন্তভ‚ক্ত হয়। আমাদে সহপাঠী – বান্ধবী নাজমুন নাহার লূনা, (সাবরেজিস্ট্রারের মেয়ে),মাহামুদা হোসেন লুনা (ঢাকা কনফেকশনারীর রোটা দেলোয়ার হোসেন সাহেবের মেয়ে) এবং মিশনরোডের উলফত কটেটেজের হাবিবুর রহমান খান সাহেবের মেয়ে ঝুমুর আকতার প্রথম এ ক্লাবের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। এর পর ক্রমান্নয়ে নাজমা আপা, রিফাত, পান্না, এডভোকেট কাজল আপাসহ আরো অনেকেই সদস্য হয়।
আমাদের সময় চাঁদপুর রোটার‌্য্ক্ট ক্লাব সমাজ সেবা, ভকেশনাল সার্ভিস, রক্তদান কর্মসূচীতে রোটার‌্যাক্ট জেলার শ্রেষ্ঠ ক্লাব হিসেবে একাধিকবার চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাব মযার্দাদা লাভ করে। রোটার‌্যাক্ট জেলা সম্মেলন, ক্লাব এসেম্বলী, আন্ত শহর সভা, জেলা পিকনিক সব জায়গায় চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের অংশগ্রহণ ও অবস্থান ছিল সবার শীর্ষে এবং হাইয়েস্ট ডেলিগেশনের এওয়ার্ড ছিল নির্ধারিত। চাঁদপুরের বিশাল প্রতিনিধি দলের অংমগ্রহণ ছাড়া রোটার‌্যাক্ট জেলার কোন কার্যক্রমই যেন জমে উঠত না। এরই ফলশ্রæতিতে ১৯৯৩ সালে পি ডিআর আর সেলিম সাজ্জাদ হক চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবকে রোটার‌্যাক্ট জেলা সমাবেশ ‘অঙ্গীকার ৯৩’ আয়োজনের সুযোগ দেয় এবং জেলা সমাবেশের চেয়ারম্যান হিসেবে পিপি রোঃ আমিন আহমেদকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে রোঃ মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল কে দায়িত্ব দেয়া হয়। সততা, নিষ্ঠাও দায়িত্বশীলতার সাথে চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সদস্যরা হোম হসপিটালিটির মাধ্যমে ‘অঙ্গীকার ৯৩’ সফল আয়োজন নিশ্চিত করলে রোটার‌্যাক্ট জেলায় চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের অবস্থান অনন্য উচ্চতায় উঠে আসে। এ ক্লাব পরিদর্শনে পিডিআরআর ফজলে রাব্বি মোপাশা,একে মুজিবুর রহমান ্এ্যনী, সেলিম সাজাজাদ হক, তৈয়ব চৌধুরী, ডিআর আর প্রার্থী আবদুন নূর তুষারসহ আরো অনেকে রোটার‌্যাক্টর।
২০০০ সালে চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালীন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে আনার দায়িত্ব বন্ধুবর সভাপতি রোঃ মোস্তফার অনুরোধে আমার উপর দেয়া হয় এবং আমি তা যথাযথভাবে পালন করি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বন্ধু রোঃ মোস্তফাকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের অফিসে যাই এবং তার আগমন নিশ্চিত করি যা রোটারিয়ানদের অনেকের কাছেই অবিশ^াস্য মনে হয়েছিল।সে অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশণাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ড্যাফোডিল গ্রæপের জেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।রোটার‌্যাক্টর মোস্তফা অত্যন্Í সৌভাগ্যবান কারণ তার সভাপতিত্বকালীন সময়ে চাঁদপুররোটার‌্যাক্ট ক্লাব রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদডাপন বওে এবং আজ সুবর্ণ জয়ন্তী পালনকালে সেই মোস্তফা চাঁদপুর রোটারী কøাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এটিএকজন রোটার‌্যাক্টরের জন্য কমগৌরবের নয়। সেই রজত জয়ন্তীর মধ্য দিয়েই আমি মূলতঃ আমার রোটার‌্যাক্টের জীবনের অবসান ঘটে।
এ রোটার‌্যাক্ট আন্দোলন খেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং অনেক কিছু পেয়েছি। এখানে অনেক কিছই শেখার আছে । তবে শুধু হাসি-আনন্দ আর বিনোদনে মত্ত থাকলে হবে না, শিক্ষনীয় বিষয় গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই জীবনে সফল ক্যারিয়ার গড়ার পথ অনেকটা সহজ হবে। বিশেষকরে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের আয়োজনে Rotaractors Training Camp (RTC) Rotary Youth Leadership Award (RYLA) ক্যাম্প ক্যারিয়ার গঠনে ও নেতৃত্ব বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভ‚মিকা পালন করে যার প্রমান আমি নিজেই পেয়েছি। এ রোটার‌্যাক্ট ক্রাবেরর মাধ্যমেই আমি ১৯৮৮ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের আয়োজনে গ্যাজুয়েট টেনিং ইন্সটিটিউটে 3rd RTC এবং ১৯৯১ সালে কুমিল্লা রোটারী ক্লাবের স্বাগতিকতায় RYLA -তে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই। এ রোটার‌্যাক্ট ক্লাবই আমাকে নেতৃত্বগুন শিখিয়েছে, সময়ানুবর্তিতা শিখিয়েছে, নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। রিপোটিং দক্ষতা ও সাংবাদিকতায় অনুপ্রাণিত করেছে। ফলশ্রæতিতে মফস্বলে বেড়ে উঠা একজন তরুƒল জীবনের প্রথম ইন্টারভিউতেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক কংগেøামারেট বেক্সিমকো গ্রপের জনসংযোগের মত গুরুত্বপূর্ন বিভাগের দায়িতে নিয়োগ পাওয়া নিশ্চয়ই কম গৌরবের নয়। পরবর্ততীতে নিজের মেধা ও প্রজ্ঞার কারণেই দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধানের মত গুরুত্বপূর্ন এ পদে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং দীর্ঘদিন কাজ করার সক্ষমতা, সাহস ও ধৈর্য্য এ রোটর‌্যাক্ট ক্লাবই আমাকে দিয়েছে। আমার আজকের কর্মজীবনের এ সাফল্য এনে দিয়েছে চাঁদপুর রোটার‌্যক্ট ক্লাব। আমি তাই এ ক্লাবের কাছে কৃতজ্ঞ। এ ক্লাবের কাছে আমার অনেক

-সভাপতি (১৯৯৪-৯৫)
ঊর্ধবতন সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ)
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

শেয়ার করুন