সেই দু’ গ্রামসহ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আজ উদযাপন হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আফ্রিকার দেশ নাইজার ও সোমালিয়ায় প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বুধবার ঈদ উদযাপনের পর এবার আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। আজ সকাল পৌঁনে ৯ টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা হামিদিয়া ফাযিল মাদ্রাসায়।

সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা ৯২ বছর ধরেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাদ্রাসহ ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। ঈদকে ঘিরে এসব গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার সফিকুর রহমান বলেন, বুধবার সাদ্রা ও পাশ্ববর্তী সমেশপুর গ্রামের অল্পসংখ্যক মানুষ ঈদ উদযাপন করেছেন।

সাদ্রা দরজার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, বুধবার ভোরে আমাদের একজন চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পায় এবং সেটিকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন বিধায় তারা অল্পসংখ্যক মানুষ ঈদ উদযাপন করেছেন। চাঁদ দেখার ওই খবর আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে তা গ্রহণযোগ্য মনে করিনি বিধায় ঈদ উদযাপন করিনি।
তিনি বলেন, আমরা মুসলিম বিশ্বের সাথে মিল রেখে বৃহস্পতিবার ঈদ করবো। আমরা নির্ধারিত কোন দেশকে ফলো করি না। তবে ঈদুল আযহার কথা বললে পক্ষান্তরে সৌদী আরবকে আমাদের ফলো করতেই হয়। কারণ, হজ্ব ফলো না করলে আমরা কোরবানি করতে পারি না। তারপরও আরব বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা বিশ্বাসযোগ্য হলে আমরা রোজা পালন এবং ঈদ উদযাপন করি। যদি সেটি আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হয়।

তিনি বলেন, এই প্রথম এবার আমরা চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা যাবে না বলে মঙ্গলবার জ্যেতিবিদরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অর্থাৎ পৃথিবীর কোন স্থান থেকে দুরবিন দিয়েও চাঁদ দেখা যাবে না। এখন এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি ভোররাতে হঠাৎ বলে চাঁদ দেখা গেছে সেক্ষেত্রে সবার মাঝেই সন্দেহ দেখা দিবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ঈদগাহে জামাত করা যাবে না। তাই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদ্রাসার ভেতরে জামাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে গত ৯২ বছর ধরে ঈদের জামাত হয়ে আসছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১৬টি গ্রামের প্রত্যেকটি মসজিদেই ঈদের জামাত হবে। মতলবের দশানী, মোহনপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেই ঈদ উদযান করা হবে।

যেসব এলাকায় আগাম ঈদ :
সাদ্রা ছাড়াও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

সাদ্রার হামিদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ছয় ছেলে এ মতবাদের চালিয়ে আসেন। এর মধ্যে পীরের বড় ছেলে আবু যোফার মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর পর এখন তার ছেলে আরিফও এ মতবাদ চালাচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ এবং মতলব উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদ উদযাপন হয়। এসব এলাকায় ৩৪টি ঈদের স্থানে ঈদের জামাত হয়। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জে ১৫টি, হাজীগঞ্জে ১৩টি এবং ৬টি মতলব উত্তরে।

এর আগে বিশ্বের কয়েকটি স্থানে চাঁদ দেখার যাওয়ার খবরে বুধবার ঈদ উদযাপন করেন সাদ্রা দরবার শরীফেরই একটি অংশ।

সাদ্রার মরহুম পীরের ছেলে জাকারিয়া আল মাদানী বলেন, আফ্রিকার দেশ নাইজার, সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে তা যাচাই-বাছাই করে বুধবার আমরা ঈদ উযাপন করেছি। আমরা সর্বপ্রথম চাদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখি এবং ঈদ উদ্যাপন করি। সৌদীকে অনুসরণ করে নয়।
তিনি বলেন, হয়তো সবাই খবর পায়নি। অন্যদিকে সৌদী আরবসহ অনেক দেশে ঈদ হচ্ছে না সেদিকেই খেয়াল করেছেন। বিশ্বের কয়েকটি দেশেই ঈদ হচ্ছে সেটি তারা জানতেন না।

দরবারের বড় পীরজাদা পীর ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিসকাত চৌধুরী বলেন, হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি এ তিন মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে- পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তেও যদি চাঁদ দেখা যায় আর সে সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তেও পৌছায় তাহলে পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্য রোজা রাখা ফরজ এবং ঈদ করা ওয়াজিব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply