হাজীগঞ্জের ঘটনায় ১৪৪ ধারা, তদন্ত কমিটি গঠন

সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মী নারায়ণ জিওর আখড়াসহ কয়েকটি মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় হতাহতের পর ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত দল প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
নিহতরা হলেন- টাইলস মিস্ত্রী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর রহমানের ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১নং ওয়ার্ড রান্ধুনী মুড়ার তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮) ও একই ওয়ার্ডের মো. ফজলুর ছেলে ইয়াছিন হোসেন হৃদয় (১৪) ও পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়ার বাচ্চুর ছেলে গ্রামের শামীম (১৯)।
হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এশার নামাজের পর আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া ও পাশবর্তী আশ্রমে হামলা করে। এ সময় পুলিশ এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা ও পুলিশের একটি গাড়ি আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ প্রায় ৩৫ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত বাবলু, আল-আমিন, হৃদয় ও শামীমকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মৃত্যু হয়।
এদিকে হাজীগঞ্জের মন্দিরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষে ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম (বার), বিপিএম (বার)।
এ সময় চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এখানে যখন সম্পদের উপর আঘাত এসেছে, মানুষের জীবনের উপর আঘাত এসেছে তখনতো সঙ্গত কারণেই এখানে যারা শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিল তারা আত্মরক্ষার জন্য এবং সম্পদ রক্ষা করার জন্য তারা তখন ফায়ার করেছে। তিনি জানান, এখানে সর্বমোট ৪ জন মারা গেছেন। এখান থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ৩ জন মারা গেছে-এটি হাসপাতালে রেকর্ডেড আছে। এর মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলে মারা গেছে আর একজন হাসপাতালের নেয়ার পর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পোস্টমর্টেম হবে চাঁদপুর মর্গে। এছাড়া ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, হাজীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজিবি থাকবে। তিনি জানান, হাজীগঞ্জের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), দি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান, জমিদার বাড়ীসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ১৯ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত ও ৪ জন নিহত হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *