কচুয়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত স্বপন, ১২ কাউন্সিলরের মধ্যে নতুন মুখ ৭ জন

মানিক ভৌমিক :
কচুয়া পৌরসভায় নির্বাচনে মেয়র পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন। নাজমুল আলম স্বপন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ে ১০ হাজার ২শত ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ৬শত ৪৭ ভোট পেয়েছেন হুমায়ূন কবীর প্রধান। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৫১ ভোট পেয়েছেন আহসান হাবীব প্রানজল।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন, (১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড) জোহরা খাতুন (জবা ফুল) ২ হাজার ৬ শত ৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফেরদৌসি আক্তার (আনারস) পেয়েছেন ১হাজার ৬শত ৩২ ভোট। (৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড) রোকেয়া বেগম (আনারস) ১হাজার ৪শত ৬০ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিলকিছ আক্তার (জবা ফুল) পেয়েছেন ১হাজার ১শত ২৫ভোট। (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) পারুল আক্তার (চশমা) পেয়েছেন ২হাজার ৬শত ৬৪ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমেনা বেগম (আনারস) পেয়েছেন ৯শত ৫ভোট।।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে মো: নজরুল ইসলাম (উটপাখি) ৭শত ২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল কাদের (ডালিম) পেয়েছেন ৫শত ২ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে তাজুল ইসলাম রাজু (পাঞ্জাবী) ৪শত ৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মহসিন রেজা (উটপাখি) পেয়েছেন ৪শত ৩৫ ভোট। ৩ নং ওয়ার্ডে মাহারুন নেছা মিলি (পানির বোতল) ৪শত ৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফারুক মিয়াজী (ব্ল্যাক বোর্ড) পেয়েছেন ৪শত ৭ ভোট। ৪ নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর মোল্লা ৩শত ৭১ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুলাল মিয়াজী (ব্ল্যাক বোর্ড) পেয়েছেন ৩শত ৪৪ভোট। ৫ নং ওয়ার্ডে আমিনুল হক মিয়াজী (পাঞ্জাবী) ৫শত ১ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আজাদ মিয়াজী (উটপার্খি) পেয়েছেন ২শত ৮৭ভোট। ৬ নং ওয়ার্ডে আব্দুল মান্নান (উটপাখি) ৫শত ৪০ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহ আলম (পাঞ্জাবী) পেয়েছেন ৪শত ৭৯ভোট। ৭ নং ওয়ার্ডে কামাল হোসেন অন্তর (উটপাখি) ৬শত ৭ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেন্টু মজুমদার (পানির বোতল) পেয়েছেন ৬শত ২ভোট। ৮ নং ওয়ার্ডে মোঃ মাসুদ আলম (পাঞ্জাবী) ৭শত ২০ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শরীফ আহমেদ মিয়া (ব্রিজ) পেয়েছেন ৪শত ৩১ভোট। ৯ নং ওয়ার্ডে আবুল খায়ের রুমি(উট পাখি) ২৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল হক(পানির বোতল) পেয়েছেন ১৩৬ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং অফিসার কাজী আবু বকর সিদ্দিক নির্বাচনের ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সার্বিকভাবে পৌরসভা নির্বাচনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

নাজমুল আলম স্বপন পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় বিজয় উৎসব করছে দলীয় সমর্থকেরা। বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করায় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নাজমুল আলম স্বপন । তিনি কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

এর আগে কচুয়া পৌর নির্বাচনে ছোট খাটো দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ৯টি কেন্দ্রে ভোটাররা উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ,জেলা নির্বাচন অফিসার তোফায়েল হোসেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ,কচুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার কাজী আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
কচুয়া পৌরসভার মোট ১৯ হাজার ৯৯জন ভোটারের মধ্যে ১১ হাজার ৯শ ১৮জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তন্মেধ্যে ৮ ভোট বাতিল হয়। শতকার ভোটের হার ৬২.৪০%। তবে এ নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।
নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ৩জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮জন ও সাধারন কাউন্সিলর পদে ৪৩ জন প্রার্থী তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *