’গ্রাম হবে শহর’ স্বপ্নপূরণে রাজারগাঁও ইউনিয়নে আবারো নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হাদী মিয়া

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১নং রাজারগাঁও (উ.) ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাদী মিয়া তৃতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নৌকার মননোয়ন প্রত্যাশী।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাদী মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতে ‘গ্রাম হবে শহর’ স্বপ্নপূরণে কাজ করতে ১নং রাজারগাঁও (উ.) ইউনিয়নে আবারো নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আমি শতভাগ আশাবাদী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, বিশ্ব-মানবতার মা, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারও আমাকে তৃতীয় বারের মতো ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিবেন। আর এসুযোগটি শতভাগ ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়ার অঙ্গীকার ও প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের হাতকে শক্তিশালী করতে ১নং রাজারগাঁও (উ.) ইউনিয়নের উন্নয়ন
ধারা অব্যহত রাখতে দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক নিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে জনগনের সেবা করতে চাই। আমি আমার ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শেখ হাসিনার স্বপ্ন গ্রামকে শহরে পরিণত করতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন নিরলস প্রার্থী হিসাবে সকলের সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করছি।
তিনি মানবিকতার দৃষ্টিকে প্রসারিত করে, সবার হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন গঠন করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান।
তিনি বলেন, নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যানে নিজকে নিয়োজিত রাখবো, এলাকার সকল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি, এই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমি ৫ বার (৫ অর্থ বছর) জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।
যার ফলে আমি সরকারিভাবে ২ বার বিদেশ সফর করেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছি। ইউনিয়নের উন্নয়ন, শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এবং বিদেশ সফর করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি জানান, বর্তমানে আমার ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এক সময় ইউনিয়নের লোকজন কৃষি নির্ভর ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ও সময়ের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারী চাকুরিজীবীসহ ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন প্রবাসে কর্মরত।
আমি ২০১১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এরপর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মননোয়ন পেয়ে দ্বিতীয় বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।
আমার এই ১০ বছরে ইউনিয়নে শতভাগ বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য ভাতা ও শতভাগ বিদ্যুতায়ন এলাকা হিসেবে চিহিৃত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে এবং বিভিন্ন মেঘা প্রকল্পের বাস্তবায়নসহ দেশের এই উন্নয়ন কাজ চলমান। এই উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে নেই আমার ইউনিয়ন।
মাননীয় এমপি স্যারের নেতৃত্বে আমি এই ইউনিয়নের জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।
এই ইউনিয়নের গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে কাঁচা (মাটি) রাস্তা নির্মাণ, ছোট-বড় কাঁচা রাস্তায় সিসি, আরসিসি ঢালাই দ্বারা পাকাকরণ, ইটের সোলিং, কালভার্ট, গাইড ওয়াল, আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজ হাট-বাজারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।
এ ছাড়াও করোনাকালীন এই সময়ে সরকারি সহায়তা প্রদানসহ আমি সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে, মাস্ক বিতরণ, হাত ধৌয়ার জন্য হ্যান্ড সেনেটারী এবং সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ নিজস্ব অর্থায়নে কর্মহীন মানুষের মাঝে নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছি।
আমি দল মত নির্বিশেষে সবাইকে এক চোখে দেখেছি বলে জানান তিনি।
আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া আরো জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
দল (আওয়ামী লীগ) আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং জনগণ আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি দল এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে সর্বোচ্ছ চেষ্টা করেছি এবং এখন পর্যন্ত করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের এমপি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আমি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। যেসব উন্নয়ন এখন সবার চোখে দৃশ্যমান। আমার এই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমি সবসময় ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যে কয়েক দিন বেঁচে থাকি, ততদিন যেন জনগনের পাশে থেকে ইউনিয়নের উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পারি। এটিই আমার আশা ও প্রত্যাশা।
আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং জনগণের ভোটে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে, বাকি উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত এবং ইউনিয়নকে উপজেলার একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি।
সরজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, আলহাজ্ব আব্দুল হাদী মিয়ার তার মেয়াদকালীন সময়ে ইউনিয়নে প্রায় ২৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ হয়েছে। নতুন করে ১০টি মাটির রাস্তা ও ছোট-বড় ২১টি ব্রীজ-কালর্ভাট নির্মাণ করা হয়েছে। রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন দ্বিতল ভবন, রাজারগাঁও হাইস্কুলে ৪ তলা ও ৩ তলা বিশিষ্ট দুইটি নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে।
এছাড়া রাজারগাঁও ফাজিল মাদরাসায় ৪ তলা, মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা এবং মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভীত বিশিষ্ট ১ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ২ শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। রাজারগাঁও বাজার প্রশস্তকরণ ও আরসিসি ঢালাই দ্বারা পাকাকরণ করা হয়েছে।
ইউনিয়নের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মন্দির) সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে অনুদান দিয়েছেন আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া। এছাড়াও বিয়ে, পড়ালেখার খরচসহ বিভিন্ন উৎসব ও কর্মসূচীতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছেন নিত্য। এক কথায় তিনি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুখে সবসময় পাশে ছিলেন এবং রয়েছেন। আগামি দিনেও তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এ দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা সরজমিন পরিদর্শন করে এবং জনগণের সাথে কথা হলে, তারাও আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়াকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
এই ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহৃত রাখতে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়ার (হাদী চেয়ারম্যান) কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার মেয়াদকালীন সময়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ছিলো চোখে পড়ার মতো।
ইউনিয়ন বাসী আরো জানান,চেয়ারম্যান একজন সৎ, যোগ্য মানুষ এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের কারিঘর হিসেবে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়াকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *