চাঁদপুরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণার্থী কারা জানেন না পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে কেবলমাত্র পরিবহন চালক ও সহযোগীদের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও অধিকাংশই ছিলেন ভিন্ন পেশার। যাদের কেউ চা দোকানদার, কেউ প্রতিবন্ধী, কেউ আবার শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস পাহারাদার। কর্মশালায় ১০০ জনের অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও উপস্থিতির সংখ্যা ছিলো ৭০/৮০ জন। আর প্রশিক্ষনার্থীদের সম্মানীর ৫০০ টাকা থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলছেন, তাদের জনপ্রতি সম্মানী ছিলো ৭৫০ টাকা করে।
১২অক্টোবর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা নিয়ে এমনসব অভিযোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কারা অংশ নিয়েছে- সেটি নিজেই জানেন না বলে জানিয়েছেন, আয়োজক প্রধান চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া এক ব্যক্তির কাছে তার পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি চাঁদপুর বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়ে চা এনে দেয়ার কাজ করি। তার চায়ের দোকান আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি হাসি দিয়ে সটকে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক অংশগ্রহণকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা দৈনিক হাজিরায় কাজ করে থাকেন। একদিনের কাজ ফেলে এই কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। তারা জানতেন, এই প্রশিক্ষণে অংশ নিলে জনপ্রতি ৭৫০ টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হবে। অথচ প্রশিক্ষণ শেষে বলছে ৫০০ টাকা সম্মানী। তার থেকে আবার ১০০ টাকা করে হাতে কেটে রেখে ৪০০ টাকা করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজিম হোসেন শেখ জানান, প্রশিক্ষণে কারা অংশ নিয়েছেন সেটি আমরা জানি না। আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের কাছ থেকে চালক ও সহযোগীদের তালিকা চেয়েছি। তারাই অংশগ্রহণকারীদের তালিকা দিয়েছেন। এখানে কারা চালক-সহযোগী কিংবা কারা অন্য পেশার সেটি আমরা জানি না।
প্রশিক্ষনার্থীদের সম্মানী ৭৫০ না কি ৫শ’ টাকা, এ বিষয়ে নাজিম হোসেন শেখ বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা ৫০০ টাকা। তবে তাদের প্রত্যেকের থেকে ভ্যাটসহ খরচ বাবাদ ১০০ করে কেটে নেয়া হয়েছে।
এদিকে আয়োজকদের ফাইলপত্রে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ’ শিরোনামে চমৎকার একটি শ্লোগান থাকলেও অনুষ্ঠানের ব্যানারে সেটি দেখা যায়নি। ফাইলপত্রে মুজিব শতবর্ষ’র লোগো থাকলেও ব্যানারে সেটি ছিলো না। উল্লেখিত বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
এর আগে সকাল ১০টায় কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *