চাঁদপুর-৪: ভোট কারচুপির অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর, পুনরায় গণনার দাবি
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন মো: হারুনুর রশিদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য:
লিখিত বক্তব্যে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের দিন দুপুর পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও এরপর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম শুরু হয়। তাঁর দাবি:
- এজেন্ট বিতাড়ন: শোল্লা, ঘড়িয়ানা ও মুন্সীরহাটসহ অন্তত ১০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের হুমকি ও মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
- জাল ভোট: স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ি প্রতীক) মো: আব্দুল হান্নানের কর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়ন দখল করে বিপুল পরিমাণ জাল ভোট দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
- সহিংসতা: ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গত দুই দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, জনৈক কর্মীর ৩টি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এক কর্মীকে না পেয়ে তার ৯ বছরের শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে।
তদন্ত ও পুনরায় গণনার দাবি:
লায়ন হারুনুর রশিদ বলেন, “অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের জয় হলেও কয়েকটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ব্যবধান তৈরি করা হয়েছে যা কেবল কারচুপির মাধ্যমেই সম্ভব।” তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন:
”একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ টিম গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করুন। আমরা ইতোমধ্যে বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গণনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
নির্বাচনী ফলাফল এক নজরে:
উল্লেখ্য যে, ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী চাঁদপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট হলো:
- মো: আব্দুল হান্নান (স্বতন্ত্র – চিংড়ি): ৭৩,৫৯৯ ভোট।
- লায়ন মো: হারুনুর রশিদ (বিএনপি – ধানের শীষ): ৬৭,৮৩৩ ভোট।
- মো: বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (জামায়াত – দাঁড়িপাল্লা): ৬২,২৭৩ ভোট।
সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদ ফরিদগঞ্জের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং হামলা-ভাঙচুর বন্ধ করার জোর দাবি জানান।











