শাহরাস্তিতে অপহৃত শিশু কন্যাকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

আশিক বিন রহিম :
অপহরণ হওয়া পাঁচ বছরের শিশু কন্যা খাদিজা আক্তারকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন অসহায় গর্ভধারিণী মা ফাতেমা আক্তার। ১২ জুন শনিবার সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে কন্যা শিশুটির মা ফাতেমা আক্তার সংবাদ সম্মেলন করে এই আকুতি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ছোটতুলা গ্রামে বাড়ির উঠানে খেলার শিশু খাদিজা অপহরণ হয়। ঘটনার দিন নিখোঁজ শিশুর দাদা বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও মেয়েকে ফিরে না পেয়ে ৭ মে পুনরায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। সন্দেহজনক ভাবে স্থানীয় রবিউল আলম ও মোঃ ফরহাদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনা তদন্তে পুলিশ এই মামলা সম্পর্কিত আরো বেশ ক’জনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে জৈনিক সুমন কবিরাজের কাছে শিশু খাদিজা আটক আছে বলে জানা গেলে। কিন্তু পুলিশ সুমন কবিরাজকে খুঁজে পাচ্ছে না।
শিশু খাদিজার মা লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, আসামি রবিউল আলম শিশু খাদিজাকে মোটরবাইকে ঘুরাবে বলে তুলে নিয়ে যায়। সে এর আগেও এক শিশুকে আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। অপর আসামী ফরহাদ একটি শিশু বাচ্চাকে বিক্রি করেছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।
তারা থানা-পুলিশের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে মামলাটির পিবিআই তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। ঘটনার দুই মাস ১৪ দিন হলেও খাদিজাকে উদ্ধার করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় মা খাদিজা সংবাদ সম্মেলনে মেয়েকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগীতা চেঢে আকুল আবেদন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন ও সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শাহারাস্তি থানার ওসি আবদুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে থানায় একটি জিডি করা হয়। পরবর্তীতে ঐ জিডি ধরেই অপহরণ মামলা হয় ২ আপন ভাই ফরহাদ ও রবিউলসহ অজ্ঞাতনামা আরো ক জনকে আসামী করে। পরে আমরা এজহারভুক্ত আসামী ২ জন এবং ১ জন মহিলাসহ আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করি। মহিলা ছাড়া অন্য ৫ জনকে রিমান্ডেও আনা হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের আইনী চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি শিশুটি উদ্ধারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *