হাজীগঞ্জের ৪ নং কালচোঁ দক্ষিণে তৃতীয়বার চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোস্তফা স্বপনকে চান ইউনিয়নবাসী

শাখাওয়াত হোসেন শামীম :

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ,নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা শোনা, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার কারণে তাকে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের অনেকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,গোলাম মোস্তফা স্বপন ইতোমধ্যে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা,তাদের সমস্যা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের কারণে তার প্রতি স্থানীয়দের একটি অংশের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো এবং তাদের কথা শোনাকে গুরুত্ব দেন গোলাম মোস্তফা স্বপন। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়,সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে আলোচিত।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশেন। এলাকার মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন। প্রয়োজনের সময় তার কাছে গিয়ে কথা বলা যায়—এটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয়দের মতে,রাস্তা-ঘাট,যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সেবা,শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। কৃষক,ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, শিক্ষক ও তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।

ইউনিয়নের তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও চেয়ারম্যান গুরুত্ব দেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পরিবেশ সুন্দর রাখার বিষয়েও তিনি বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। তারা ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন,শিক্ষা,স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা,নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

একজন বাসিন্দা বলেন,“উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েও চেয়ারম্যানকে সক্রিয় দেখা যায়। আমরা চাই, তিনি ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করে যান।”

স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে গোলাম মোস্তফা স্বপন এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত। এ কারণেই স্থানীয়দের একটি অংশ তাকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, “জনগণই আমার মূল শক্তি। জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। আমি সবসময় চেষ্টা করি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কথা শুনতে এবং প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে থাকতে।”

তিনি আরও বলেন,“কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নকে একটি আধুনিক,উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। একজন জনপ্রতিনিধি একা কোনো উন্নয়ন করতে পারেন না। জনগণ,প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে একটি এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।”

তিনি বলেন,“উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো,সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা,তরুণদের ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করাও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা,কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

শেয়ার করুন