চাঁদপুরের নদী থেকে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই, তবে পাশ্ববর্তী জেলা থেকে বৈধ উপায়ে তোলা বালু ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে

জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ
* সড়ক বিভাগের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কার করা হবে
* পুনরায় ইচুলি লঞ্চঘাট চালুর অনুরোধ
* সড়ক বিভাগের উপর অবৈধ স্থাপনাগুলো অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে
অভিজিত রায় :
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেছেন, উন্নয়ন সমন্বয় সভায় যে সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগন আছেন সবাই একযোগে কাজ করলে চাঁদপুরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না। যার দপ্তরের যে কাজ সেই কাজগুলো তারই তদারকি করতে হবে। রোববার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজান চলছে। সেহরি-ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুতে যেন লোড শেডিং না হয় সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে আহবান জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, রমজান মাসে যেহেতু আমাদের দেশে অধিকাংশ ব্যক্তিরাই যাকাত দিয়ে থাকেন। সে সুবাদে যাকাতের কিছু অংশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দিলে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা যায়। যাকাতের টাকা যে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে দেয়া যায়। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যাকাত ফান্ডে দান করতে আপনাদের অধীনস্থদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ আরো বলেন, আমি মনে করি একটি স্বার্থক ও কার্যকরী সভা সম্পন্ন হয়েছে। অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আজকে নেয়ে হয়েছে আগামীতে সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট যার যে কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তারা যেন সেসব কাজ পরবচালনা করতে মনিটরিং করেন। তাদের কাজের মাধ্যমে চাঁদপুরবাসীর যেন উপকার হয়, এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানাই। বিদ্যুৎ এর স্থাপনা গুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। রোজাদার যেন কষ্ট না হয় সেদিক খেয়াল রাখবেন। ইফতার তারাবি ও সাহরির সময় যেন বিদ্যুৎ এর ঘাটতি না হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরিকল্পনা করতে সবকিছু বুঝে। অবাস্তব পরিকল্পনা করে কোন লাভ হবে না। যাদের জন্যে ঘর করলাম চরে, তারাতো সেই চরে যাবে না। মানুষের শুধু ঘর থাকলেতো হবে না। তাদের খাওয়া-দাওয়া, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এখন যাকে ঘর দিলাম সে যদি কর্মসংস্থানের জন্যে নদী পার হয়ে আসতে হয় তাহলে তো সে চরে গিয়ে থাকবে না। এজন্য আমাদের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এজন্যে এখন আমরা বুঝে শুনে আশ্রয়হীনদের এবং গৃহহীনদে ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। আমরা কোন চরের মধ্যে প্রস্তাব দিচ্ছি না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখতে পেয়েছি ঘর তৈরি করার পর মানুষজন থাকছে না, আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো নষ্ট হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো চরে, নদীর কাছাকাছি বা যেসব এলাকা ভাঙন সম্ভাবনা, সেসব এলাকাতে ঘরের জন্যে প্রস্তাব দিবেন না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাৎ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সাবেক জেলা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, বিআইডাবিøউটিএর উপ-পরিচালক কায়সারুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামচ্ছুদ্দোহা, প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন প্রমূখ।
সভায় আরো আলোচনা হয় চাঁদপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। দীর্ঘদিন হয়ে গেলো ডায়রিয়া রোগী কমছে না। এমন প্রস্তাবনায় জেলা প্রশাসক বলেন, বাসার রিজার্ভ ট্যাংক যেন পরিস্কার করা এবং পানি ফুটিয়ে খাওয়ার ব্যাপারে মাইকিং করতে হবে। এছাড়াও যাদের ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের রিজার্ভ ট্যাংকের পানি পরীক্ষা করতে হবে। চাঁদপুরের অধিকাংশ রাস্তাগুলি ক্ষত বিক্ষত এ সকল বিষয়ে আলোচনায় জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কার করা হবে। সড়ক বিভাগের উপর যে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। চাঁদপুরের যানজট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। চাঁদপুরে যানজট এক মহা সমস্যা। উন্নয়ন সভায় এটাই সকলের মধ্যে আলোকপাত করেছেন। ওই আলোচনায় উঠে এসেছে বাইপাস সড়ক সহ নানা আরো প্রস্তাবনা উল্লেখ করা হয়। তার মধ্যে চাঁদপুরের প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন ইচুলি লঞ্চঘাট পুনরায় চালু করার প্রস্তাব জানান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বিআইডবিøউটিএ’র উপ-পরিচালক কায়সারুল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, রায়পুরসহ ওই রোডের যাত্রীদের জন্য ইচুলী ঘাট চালু করার প্রস্তাবনা সময় উপযোগী। যানজট নিরসন করতে চালু করা যেতে পারে। পুনরায় ইচুলি লঞ্চঘাট চালু হলে শহরের যানজট হ্রাস পাবে। এছাড়া লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ইচুলী ঘাটে লঞ্চ ভীড়ানো বিষয়ে তাদের মৌন সমর্থন রয়েছে। জেলা প্রশাসক বিআইডবিøটিএ নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে এবং লঞ্চ মালিকদের সাথে আলোচনা করে চালু করার অনুরোধ জানান। প্রেসক্লাব সভাপতির বক্তব্যের রেশ ধরে জেলা প্রশাসক জানান, বালুর জন্য উন্নয়ন কাজ স্থবির হওয়ার কোন কারণই নাই। কারণ, সারা দেশে বিভিন্ন নদী থেকে বৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে। যেমন চাঁদপুরের পাশের জেলা মুন্সীগঞ্জসহ অন্যান্য জায়গায়তেও। আর রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম সারাদেশেই বেড়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও। এটা শুধু চাঁদপুরেই নয়। তবে দু’এক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা রাখি। তিনি বলেন, নানা উন্নয়ন কাজের সাথে বালু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বালু চাঁদপুরের নদী সীমানা থেকে উত্তোলনের পথ বর্তমান নেই। আর এ বালু বিক্রি করারও কোন অনুমোদন নেই। তবে চাঁদপুরের বাইরে থেকে বৈধ উপায়ে তোলা বালু ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জ থেকে বালু আনা যায়। এ সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী বলেন, এ নদী অঞ্চলে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও করা যাবে না এবং তা নিয়ে কোন সংঘবদ্ধচক্র ব্যক্তি ব্যবসাও করতে পারবে না।
হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন চাঁদপুর থেকে হাইমচর বাস চালু করার জন্য প্রস্তাবনা দেন এবং ওই রুটে সড়ক প্রশস্তকরণ সহ টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিআরডি কে এ বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য আহবান জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.