চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আযহা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আজ ২০ জুলাই মঙ্গলবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। সৌদী আরবের সোমবার হজ সম্পন্ন হওয়ায় হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা ঈদ উদযাপন করছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদ গাঁ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে মুসল্লীরা ঈদের জামাতে অংশ নেয়। পরে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মানুষের শান্তি কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় ও পশু কুরবানী করা হয়।
এই দরবারের বর্তমান পীর পীর শাইখ মো. আরিফ চৌধুরী জানান, এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক প্রথম চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে ধর্মীয় উৎসব পালনের রেওয়াজ চালু করেন।
মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হওয়া চাঁদপুরের গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাশারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।
জানা গেছে, ১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে প্রথম চাদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু স্থানীয়দের অসহযোগিতার মুখে তা ভেস্তে যায়। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে একদিন আগে ঈদ পালনের উদ্যোগ নেওয়ায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। ওই বছরই নিজ গ্রাম সাদ্রায় ফিরে আসেন তিনি।
ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মাওলানা ইসহাক ওই বছরই নিজ গ্রামে ফিরে একই উদ্যোগ নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রথা চালু করেন। পরে তিনি দরবার শরীফ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীর শাইখ মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, সৌদিতে সোমবার হজ হয়ে গেছে। তাই মঙ্গলবার আমরা ঈদ উদযাপন করছি। সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা ঈদগা মাঠে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পশু কোরবানি করা হয়। এছাড়া আমাদের এখানের সকল মসজিদেই ঈদের জামাত হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে মসজিদে মাস্ক পরে আসতে বলা হয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *