মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর টেন্ডারেঅনিয়মের অভিযোগ : পুনঃটেন্ডার দাবি
মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর টেন্ডারে
অনিয়মঅভিযোগ : পুনঃটেন্ডার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমএসআর সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত টেন্ডার আহ্বান ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা না রেখে গোপনভাবে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান। এ জন্য উদ্ভট ও অপ্রয়োজনীয় কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল শর্তাবলীতে। পিপিআর অনুযায়ী বিপুল অঙ্কের অর্থের টেন্ডারের জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অফিস ও সিভিল সার্জন অফিস থেকে অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এই টেন্ডারের তাও মানা হয়নি।
এ অবস্থায় অবৈধভাবে সম্পন্ন করা টেন্ডারের মাধ্যমে মনোনীত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিলপূর্বক দরপত্র পুনঃমূল্যায়ন অথবা রি-টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবিতে সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন জানিয়েছেন টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মো. ফারুক ভূঁইয়া।
অভিযোগ রয়েছে, যারা নিয়ম মেনে কাজ করতে চান, তাদের টেন্ডার ফাইল নানা অজুহাতে বাতিল করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অথচ নিজের পছন্দের ঠিকাদারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। পিপিআর অনুযায়ী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টেন্ডার অনুমোদন করা হয় সিভিল সার্জন অফিস থেকে। ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার টেন্ডার অনুমোদন করা হয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অফিস থেকে। সেক্ষেত্রে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উল্লেখিত দুইটি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও অনুমোদন নেননি।
এদিকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ই-জিপিতে আহ্বানকৃত এমএসআর দরপত্র ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও চুক্তি সম্পাদনে অনিয়ম নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মোঃ ফারুক ভূঁইয়া।
তিনি অনিয়মের অভিযোগপত্রে বলেন, ‘মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরের জন্য এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের দরপত্র ইজিপির মাধ্যমে আহ্বান করা হলে দরপত্রে অংশগ্রহণ করি। আমি দরপত্রের টিডিএস-এ উল্লেখিত সকল শর্তাবলী মেনে দরপত্র দাখিল করি। কিন্তু একটি শর্ত দেয় যে দরদাতার আইএসও সার্টিফিকেট থাকতে হবে। কিন্তু এটি উৎপাদনকারীর হয়ে থাকে। আবার সমস্ত উৎপাদনকারীরও এটি হয় না (যেমন অপসোনিন, এসকেএফ ইত্যাদি)। ঔষধ কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনকৃত যে সার্টিফিকেটটি লাগে তা হলো জিএমপি। এই অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোন ঔষধ বাজারজাত করা সম্ভব নয়। এছাড়া লিলেন, ফার্নিচারের ক্ষেত্রে আইএসও সার্টিফিকেটের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ এই সকল কিছু লোকালভাবে বানানো হয়। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীর কখনোই আমাকে আইএসও সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারবে না। বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানতে পারি যে দরদাতার সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে তার থেকে আমি সর্বনিম্ন দর দাখিল করলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আমার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সকে নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করে উচ্চ দর দাখিলকৃত প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠান আমার কাছে নমুনা অথবা ছবি চেয়ে থাকতে পারে। যা পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৪৯ এর উ নং এ উল্লেখ আছে। এছাড়া পিপিআর অনুযায়ী ০-৩০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয় সিভিল সার্জন অফিস থেকে। ৩০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অফিস থেকে। সেক্ষেত্রে মতলব (উত্তর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চাঁদপুর উল্লেখিত দুইটি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও অনুমোদন নেয়নি।
বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, পুরো দরপত্র কার্যক্রমটি পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ নির্দেশনার পরিপন্থি। দরপত্র মূল্যায়নে দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। যা পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৫৬ এর ৩, ৪, ৫নং এর সদৃশ। এছাড়া পিপিএ ২০০৬ এর বিধি ৬৪ এর ২নং এর পরিপন্থি। উদ্দেশ্যকৃতভাবে এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তুলনামূলক বেশি দর উদ্ধৃতিকারীর সাথে চুক্তিসম্পাদন করা প্রক্রিয়া চলছে। যার ফলে আমি দরদাতা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব লুটপাট হচ্ছে। যার ফলে সরব ও দেশের জনগণ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমি আবেদন করছি চুক্তি বাতিলপূর্বক দরপত্র পুনঃমূল্যায়ন করা অথবা রি-টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হোক।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানকে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এমএসআর টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ৭০ লাখ টাকার ছিলো। প্রথমবার যে টেন্ডারটি দেয়া হয়েছিল সেটি প্রক্রিয়াগত ভুল ছিল। যার কারণে আগের টেন্ডারটি বাদ হয়ে নতুন করে রি-টেন্ডার হচ্ছে। মূলত আগের টেন্ডারটি শেষ করার মাঝামাঝি সময়ে এসে দেখি আমাদের প্রক্রিয়াগত ভুল আছে। ভবিষ্যতের সেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি আসতে পারে, যার কারণে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সেটি বাদ দেওয়া হয়। আমরা কাগজপত্র রেডি করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে রি-টেন্ডারটি দেওয়া হবে। তবে আগের দরপত্রে এক নম্বর ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে ৯ নম্বর ব্যক্তিকে মনোনীত করার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
এদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। যার কারণে এমএসআর টেন্ডার প্রক্রিয়াটির বিষয় নিয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











