ফরিদগঞ্জে নিজ কার্যালয়ে অপসারনের দাবীতে অবরুদ্ধ পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম সাইফুল ইসলাম। 

 ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)  প্রতিনিধি:

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম মো. সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করেছে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের বিদ্যুৎ কর্মীরা। ২৮ জুন রবিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জে তার নিজ কার্যালয়ে এ অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় “এক দফা এক দাবী, ডিজিএম এর অপসারণ” বলে স্লোগান দেন তারা।

ঘটনার বিবরণে সংক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ কর্মীরা জানিয়েছেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুন উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কর্মীকে তুলে নেওয়ার জেরে বিদ্যুৎ অফিসের সাথে উপজেলার ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের গ্রাহকদের একাংশের সাথে একটা টানাপোড়ন চলছে। এর মধ্যে রবিবার সকালে ঐ এলাকার যেসকল গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দেন ডিজিএম সাইফুল ইসলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে বিদ্যুৎ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ১৫ জন কর্মী সেখানে মারধরের শিকার হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিজিএম সাইফুল ইসলামকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন তারা।

এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, ডিজিএম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েল গাজীসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, গত ২ মাসে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পৌঁছায়নি পল্লী বিদ্যুৎ। ৩ মাসের বিল একত্রে দেওয়ায় গত ২ মাসের বিলের জরিমানা গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। উপরন্তু গত ২ মাসের বিল বকেয়া দেখিয়ে কোন নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে বিদ্যুৎ কর্মীদের ১৫/১৬ সদস্যের একটি টিম। 

  এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের উপর হামলা করে এলাকাবাসী। তোপের মুখে বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে সাংবাদিক ও নেতৃস্থানীয় লোকজনের সহযোগীয় এলাকা ছাড়েন বিদ্যুৎ কর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম শেখ বলেন, “আমি নিজেই ভুক্তভোগী।”

ডিজিএম সাইফুল ইসলামের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জিএম আসতেছে। এ বিষয়ে তিনি বলবেন।”  যারা আমাদের উপর হামলা করেছে,  তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে  তারা আমাদের উপর হামলা করে। আপনার অফিসে আপনি অবরুদ্ধ কেন, প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

শেয়ার করুন