কবে আবার শিশুগুলো ফিরবে মুখরিত ক্লাসে!

কবে আলো আসবে, কবে আবার বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবো? কবে আবার শিশু গুলো ফিরে আসবে মুখরিত ক্লাসে! আমরা কেউ জানি না। প্রকৃতি আর মানুষ একই সুতার দুটো প্রান্ত। আলাদা হয়ে গেলে সুর মিলিয়ে গাওয়া যায় না। শুধু চাকুরিজীবি মানুষ নয়, যারা গৃহিণী তারা বড় ক্লান্ত। আটকে পড়া জীবনে নিয়মগুলো বড় অনিয়ম হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে মনে হয় কবে আবারও সকালে উঠে স্কুলের জন্য তৈরি হবো? অনেকগুলো কচি মুখের “মেম” ডাক শুনবো।

স্কুলে আছি অনেক বছর। যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি -ছাটা নিয়ে কিছু ঝামেলা হতো। হ্যা এ-ই “হতো ” শব্দটা যে জীবনের অংশ হয়ে যাবে বুঝিনি তখন। গত বছর মার্চের দিকে যখন প্রথম করোনার কারণে স্কুল বন্ধ দিল, এতো বেশি আনন্দ লেগেছে..। মনে হয়েছে আহা! কতোদিন পর ছুুটি। কতো কিছু করার চিন্তা এলো মাথায়। প্রথম ই যেটা হলো ঘুম, কতোদিন সকালে ঘুুমাইনি। মনে হলো কতো শান্তি। কিন্তু আসলে কী তাই? না, হয়নি। তা যারা বাইরে কাজ করে তাঁরা বুুঝে দীর্ঘদিন যাবত আটকে থাকার কষ্ট। তাও এই যুগের তথাকথিত ব্যাঙের শরীরের মতো শীতল আবেগ, আর রোদহীন ভালোবাসাময় পৃথিবীতে। আধুনিকতার মোড়কে আমরা কতোটা অসহায় তা মনে হয় এর আগে এমন করে কেউ টের পাইনি। যাপিত জীবনের কতোখানি আমরা যাপন করতে পারি? মানুষ বেচে থাকার জন্য তার মনের ভূমিকা অনেকখানি। অন্তত সুস্থভাবে। সুস্থতা নিশ্চিত করতে হলেই মনের খোরাক দরকার। এ কারনেই প্রকৃতি মানুষকে আগলে রাখে। আকাশের নীল মানুষকে উদ্বেলিত করে। শরীরতত্বীয়বিদরাও বলেন হেসে ওঠার সাথে সাথে নানা রকম হরমোন শরীরে চলে আসে। আনন্দ কখনো একা’য় হয় না। দুঃখ মানেই হিমশীতল অনুভব। যার পরতে পরতে রয়েছে শেষ হয়ে যাবার করুণ সুর। জীবন মানেই উষ্ণতার ঝলমলে রোদ। যেখানে মাঝে মাঝে মেঘেরা খেলা করতে পারে। কিন্ত সুদীর্ঘ সময় আকাশে মেঘে কালো ছায়া, আলোহীনতা মনকে গভীর অবসাদে ডুবিয়ে দেয়। সে জীবন মানুষের কাছে বড়ই অনাদরের। যে জীবন ফড়িং এর, যে জীবন টুই পাখির যে জীবনে রোদেরা আগল খুলে হাত বাড়য়ে দেয়। সে জীবন বড় কাম্য। হোক না তা অল্প দিনের! আলোর মুখরতায় মেতে উঠতে চায় শিশুরা। একসময়ে কোলাহলে পূর্ণ মাঠ, ক্লাস আজ বড় হিমশীতল। বাতাসে জীবাণু। বাচ্চাগুলো আটকে আছে চার দেয়ালের ফ্ল্যাট নামক কারাগারে। যেখানে তাঁরা প্রযুক্তির উৎকর্ষ নাকি অপকর্ষ জালে আটক জানিনা।

দিনগুলো আটকে গেছে অজানা সময়ের অপেক্ষার স্রোতে। কবে আলো আসবে,, কবে আবার বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবো? কবে আবার শিশু গুলো ফিরে আসবে মুখরিত ক্লাসে!!! আমরা কেউ জানি না। প্রকৃতি আর মানুষ একই সুতার দুটো প্রান্ত। আলাদা হয়ে গেলে সুর মিলিয়ে গাওয়া যায় না। শুধু চাকুরিজীবি মানুষ নয়,, যারা গৃহিণী তারা বড় ক্লান্ত। আটকে পড়া জীবনে নিয়মগুলো বড় অনিয়ম হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে মনে হয় কবে আবারও সকালে উঠে স্কুলের জন্য তৈরি হবো? অনেক গুলো কচি মুখের “মেম” ডাক শুনবো। সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুল আবেদন ঠিক করে দাও সব কিছু। তোমার সৃষ্টি জগৎ বড় অসহায় আজ। জীবনের নিয়মের এ-ই গন্ডগোলে মানুষ তার নিজস্বতা হারাচ্ছে। বন্দী জীবনে বাসা বাঁধছে নানাবিধ সমস্যা। আমি টের পাই কতোটা একা আমি। সামাজিক জীব অসামাজিক হয়ে কতোদিন ঠিক থাকতে পারবে? কতোদিন প্রাণ খুলে হাসতে পারি না। প্রতিদিন জেগে উঠি হাজারো ভয় নিয়ে। কী অপেক্ষা করছে আজ? আজ না হারিয়ে যায় কোন কাছের প্রিয় মানুষ…।
লেখক পরিচিতি : সাঈদা আক্তার, শিক্ষক

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *