করোনার প্রভাব : চাঁদপুরে জৌলুশহীন অন্যরকম ইফতার বাজার

আশিক বিন রহিম :

মুসলিম বিশ্বের জন্যে অন্যরকম তাৎপর্যপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমজান। অন্যান্য বছর রমজানের প্রথম দিন থেকেই মুসলিমদের ঘরে ঘরে ধর্মীয় উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। অদৃশ্য এক মহামারি ভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বেই এবার রমজানের অন্য রকম পরিবেশ বিরাজ করছে। সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গেলো একমাস ধরেই মসজিদগুলোতে ওয়াক্তের নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি ৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে রমজানের তারাবীহ নামাজেও নেই মুসলি­দের সেই উপচেপড়া ভিড়। একই চিত্র ইফতারের বাজারেও। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও ইফতারের বাজারে নেই আগের সেই জৌলুশ। জেলা প্রশাসন থেকে শহরের মাত্র ৫টি বড় হোটেল রেস্টুরেন্টে ইফতার বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে করে এবছর চাঁদপুরে ইফতার বাজারের সেই চিরচেনা রূপ একেবারেই পাল্টে গেছে। এবার রমজান ঘিরে যেমন নেই কোনো বাড়তি আয়োজন, তেমনি নেই ইফতার বাজারের কোনো উৎসব আমেজ। নেই ইফতার মাহফিলের সুযোগও।
২৬ এপ্রিল রোববার দ্বিতীয় রমজানের বিকেলে চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বিভিন্ন পাড়া-মহল­ায় ঘুরে দেখা যায়, একেবারেই সুনসান নীরবতা। আগে যেখানে বিকেল হলেই ইফতার বাজারকে কেন্দ্র করে শহর থেকে শুরু করে শহরতলী কিংবা গ্রামগঞ্জের হাটবাজারের চিত্র বদলে যেত। হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো বাহারী রকমের ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে রাখা হতো। পাশাপাশি ইফতারের বাজারে নানারকম রসালো ফলের পসরাও দেখা যেতো। হাট-বাজার থেকে পাড়া-মহল­ার ফুটপাতেও বসে যেত ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান। উচ্চবিত্তরা ছুটে যেত নামীদামী হোটেল রেস্টুরেন্টে আর নিম্নবিত্তরা ভিড় করত ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এবার পথেঘাটে আগের মতো সেই ভিড় দেখা যাচ্ছে না।
শহরের ব্যস্ততম এলাকা শপথচত্বর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, একটি মাত্র হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলা রয়েছে ইফতারের পসরা সাজিয়ে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনেই রমজানের প্রথম দিন থেকে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছে চাঁদপুর হোটেল নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে রোজার ২য় দিনেও ছিল না ইফতার বিক্রির হাঁকডাক অথবা কেনার জন্য ভিড়ভাট্টা। যে শপথচত্বর মোড়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে কেবল সুনসান নীরবতা।
চাঁদপুর হোটেলের পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, করোনার প্রভাবে ইফতারের বাজারে সেই আগের জৌলুশ নেই। গত বছর শপথচত্বর এলাকায় প্রায় ২০/৩০টি দোকানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করা হতো। সেখানে এবছর জেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ৪টি হোটেলে ইফতার বিক্রির অনুমিত দেয়া হয়েছে। অথচ তারপরেও গত বছরের তুলনায় এবছর প্রথম রজমানে অনেক কম বিক্রি হয়েছে। কারণ করোনার প্রভাবে প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন খুব একটা ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বেশিরভাগ মানুষই নিজের ঘরে ইফতার তৈরী করছে।
মো. জাকির হোসেন আরো জানান, ক্রেতা কম বলে ইফতারির আইটেমও কম তৈরী করা হয়েছে। গত বছর যেখানে ২০/২২টি আইটেম তৈরী করা হতো এবছর সেখানে ১০/১২টি আইটেম তৈরী করা হয়েছে। তবে জেলা প্রসাসনের নির্দেশে প্রতিদিন হতদরিদ্রের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণের বিনামূল্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যাই বিক্রি হোক, তাতে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.