চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেড পর্যটনের জন্যে সবচে’ আকর্ষণীয় জায়গা

 

আশিক বিন রহিম :
চাঁদপুর বড়স্টেশন ত্রিনদীর মিলনস্থল মোলহেডকে আরো দৃষ্টিনন্দন এবং পর্যটকবান্ধব করার লক্ষ্যে স্থানটি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া। গতকাল ১২ জুন শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর পৌরসভা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করেন। এসময় চাঁদপুরের একমাত্র পর্যটন স্পট এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় তিন নদীর এই মিলনস্থলটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন এবং পর্যটকবান্ধব করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কোন ভূমিকা রাখতে পারে কিনা, সে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে তিনি জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে, পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় সুধিসমাজের মতামত নেন।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া বলেন, এই স্থানটিকে ইতিমধ্যেই এখানকার জনগণ পর্যটন স্পট হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। কিন্তু এই স্থানটিকে আরো বেশি পর্যটনবান্ধব করতে পর্যটন কর্পোরেশন এখানে আসতে পারছে না । কারণ, এখানে একটি জমির মালিকানা নিয়ে একটু প্রশ্ন রয়েছে। জমির মূল মালিক রেলওয়ে। কিন্তু এসে দেখলাম রেলওয়ের মালিকানা হলেও তাদের এই জায়গায় তাদের উল্লেখযোগ্য স্থাপনাই নেই, বরং জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এর যত্ন নিচ্ছে। আর আমার কাছে, এখানের লোকদের দৃষ্টিতে এ জায়গায় রেল কোন ভারী স্থাপনাও নির্মাণ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, এখানে পর্যটন ব্যবস্থপনা হবে কি না সে বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করবো, তাই আজকে আমি সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করতে এসেছি। আমি সরেজমিনে এসে দেখলাম, এটি পর্যটনের সবচেয়ে আকর্শনীয় জায়গা।
তিনি বলেন, সরকার যা কিছু করে তা জনগণের কল্যাণে করে থাকে। রেল জনগণের জন্য এবং বিনোদন ও জনগণের জন্য। এখানে এসে জানতে পারলাম যে এই জায়গাটিতে রেলওয়ের আধুনিক স্টেশসনসহ বড় স্থাপনা করা হবে। কিন্তু এখানকার বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে এও জানতে পেরেছি, এখানে বড় ধরনের স্থাপনা করা যাবে না। কারণ এই স্থানটি ঐ সমস্ত স্থাপনার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে শহররক্ষা বাঁধ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এটি স্বীকার করেছেন। তাই আমি মনেকরি রেলস্টেশন রেলের জায়গাইন থাকুক না হয়, কিন্তু আমরা এই স্থানটিতে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলব। এজন্য আমি জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিচ্ছি। তিনি সকল দপ্তরের সাথে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া আরো বলেন, এখানকার বহু সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবৎ বেদখলে ছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসক সেটি উদ্ধার করেছেন। এখানে যদি কোন কিছু করা না হয় তাহলে আবারও এই সম্পত্তি দখলে চলে যাবে। তখন আবার জেলা প্রশাসক উদ্ধার করবে, আবার দখলে যাবে। এভাবে ইঁদুর-বিড়াল না খেলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এখানে কিছু একটা করা প্রয়োজন।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, এই স্থানটি চাঁদপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহৎ একটি বধ্যভূমি ছিলো। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের হাজার হাজার শহীদের রক্ত এ ত্রিনদী মিলনস্থল এলাকা মিশে আছে। যার স্মৃতি হিসেবে এখানে রক্তধারা ভাস্কর্য করা হয়েছে। ইংরেজ শাসনামলে ঐকিহাসিক চা শ্রমিক গণহত্যাটিও এই স্থানে সংঘটিত হয়েছে। তাই এই স্থানটি ঘিরে আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বর্তমানে এই মোলহেডটি চাঁদপুরবাসীর অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। চাঁদপুর ছাড়াও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ এসে এই স্থানটির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। তাই আমরা চাই এই স্থানটির সৌন্দর্য আরো দৃষ্টিনন্দন হোক, পর্যটন নির্ভর হোক। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর পৌরসভাসহ এখানকার আপামর জনতার এটাই চাওয়া। পাশাপাশি রেলের উন্নয়ন হোক সেটিও আমরা চাই। তাই আমরা বসে সমঝোতার মাধ্যমে এই স্থানটির পর্যটন বান্ধব জায়গা হিসাবে এটিকে গড়ে তুলবো।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকার বৃহৎ একটি অংশ অবৈধ দখলে ছিল। জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সরকারের এই সম্পত্তি উদ্ধার করেছে। এখানে যদি কাজ করা না হয়, তাহলে এটি আবারো বেদখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই স্থানটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় পৌনে ২শ’ কোটি টাকার কাজ করেছে।
এময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাকির হোসেন সিকদার ও মাহমুদ কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিইএন মো. আব্দুল হানিফ, সদর উপজেলা নির্বাহী সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াস, স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাক্তার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মামুন জমাদারসহ জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *