দারিদ্র্যতা এবং পরিবারের পরিকল্পনাহীনতা শিশুর অধিকার নিশ্চিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গতকাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জনা খান মজলিশ। সভায় জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ বাস্তবায়নসহ শিশুশ্রম নিরোধকল্পে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণসহ, শিশুশ্রমের বাস্তব নানা দিক তুলে ধরে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, দারিদ্র্যতা, অসচেতনতা এবং পরিবারের পরিকল্পনাহীনতা শিশুর অধিকার নিশ্চিত করায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পুরোপুরি আইন প্রয়োগ আমরা শিশুশ্রমকে বন্ধ করতে পারছি না। এরজন্য বরং প্রথমে আমাদের যেটি দরকার, তা হচ্ছে সচেতন করা। সেজন্য সকল শিশুকে তার শিক্ষা নিশ্চিত করে তাকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকারও সে লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের লেখাপড়ায় তার পরিবারের যেন আর্থিক ক্ষতি না হয়, সে জন্য উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। স্কুল ড্রেসসহ নানা সুবিধাগুলো দেয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, এখন আর সেই সামন্তবাদী বা জমিদারি প্রথা নেই, আমাদের সমাজ বা রাষ্ট্রের মানুষ শিশু বা যে কোন মানুষের শ্রমকে তাচ্ছিল্যে দেখে তাকে ঠকানো। তিনি বলেন, দিন বদলেছে এবং আরো বদলাবে। এখন অনেক শিশুই তার তার শ্রম না বিকিয়ে বিদ্যালয়গামী হচ্ছে। শিশুকে সঠিকভাবে লালনপালন করলে, শিক্ষা দিলে তার শ্রম বিকানো থেকে রক্ষা পাবেই। জেলা প্রশাসক বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তিনি এই কমিটিতে চাঁদপুরে শ্রমজীবী শিশুর সংখ্যা বা তালিকা না থাকায় সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তার উদ্দেশ্য বলেন, এটি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো আজ। তা নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম,একটা চিত্র আমরা দেখতাম। তাই আগামী মিটিংগুলোতে এ ধরনের তালিকা উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন।
সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাকে ঘিরেই আগামীর স্বপ্ন। অতএব, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সে লক্ষে আমাদের সরকার সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, শিশুকে কাজে না লাগানোয় নিরুৎসাহিত করতে হবে। সে জন্য পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, এ সভায় শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, চাঁদপুরে শিশু অধিদপ্তরের যে কার্যালয় রয়েছে, শিশুশ্রম রোধে তাদের ভূমিকা অপ্রতুল। তারা শিশু শ্রমিকদের উপর কোন নজর রাখছে বলে মনে হয় না। এ ব্যাপারে তারা মিডিয়াকেও কোন তথ্য প্রচার করে না। ফলে চাঁদপুর একটি বন্দর বা ব্যবসা কেন্দ্র হয়েও নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শ্রমিকদের সংখ্যা বা তাদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র মিডিয়ায় তুলে আনা যায় না। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে এ ব্যাপারে তাদের সজাগ করার অনুরোধ জানান। সভায় ডিডিএলজি উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, এটাই জেলা পর্যায়ে প্রথম সভা। তবে এখন এ সভা নিয়মিত হবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক রজত শুভ্র, জেলা তথ্য অফিসার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হযরত আলী, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনির আহমেদ পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি প্রমুখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *