পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান শামসুল আলম

চাঁদপুর প্রতিদিন ডেস্ক :
টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার কৃতি সন্তান পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদ্য সাবেক হওয়া সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। আগামী রবিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ৩৫ বছরের অধ্যাপনা শেষে ২০০৯ সালের ১ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। সিনিয়র সচিব পদে দীর্ঘ এক যুগ চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩০ জুন তার সবশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দাকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে আমার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আমাকে বিষয়টি (শপথ নেওয়া) অবহিত করেছেন। শপথ নেওয়ার পরেই আমি আমার অনুভূতি জানাবো। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার রক্ষা করার জন্য আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবো।

ড. শামসুল আলম ১৯৫১ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরের বছর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ২০১৫ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন। সেখানে কর্মরত অবস্থাতেই ১৯৮৩ সনে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল আপন টাইন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এ ছাড়াও অধ্যাপনা জীবনে তিনি জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডের ভাগিনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস স্কুলে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষকতা করেন ড. শামসুল আলম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষকতাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

শামসুল আলম জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় ২০০২ সালের মার্চ ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পূর্ণকালীন চাকরিও করেছেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশে ১৪ মাস সিনিয়র স্কেলে পূর্ণকালীন জাতীয় কনসালটেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় দৈনিকসমূহে উপসম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় গত তিন দশকের অধিক সময় ধরে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী অসংখ্য কলাম লিখেছেন। এছাড়া গবেষণা গ্রন্থ, পাঠ্যপুস্তকসহ অর্থনীতি বিষয়ক তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২টি।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *