প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা চাঁদপুরের ৭৫২ পরিবার

বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী
অভিজিত রায় :
আসন্ন ঈদের আগে তৃতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চাঁদপুরে ঘর পেয়েছে ৭৫২ গৃহ ও ভূমিহীন পরিবার।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এসব ঘর হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চাঁদপুরে উপকারভোগীদের হাতে ঘরের দলিল তুলে দেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
তৃতীয় ধাপের এসব ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন দেখি একটা মানুষ ঘর পাওয়ার পর তার মুখের হাসি। জাতির পিতাতো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন।
সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাকি যে ঘরগুলো আছে সেগুলো আস্তে আস্তে তৈরি করে সব মানুষ যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে, সুন্দর জীবন পেতে পারে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।
ভূমি ও গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ইউনিক মডেলের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। কিন্তু আমরা জাতির পিতার আদর্শের সৈনিক। আমার কাছে ক্ষমতাটা হচ্ছে জনগণের সেবা দেওয়া, জনগণের জন্য কাজ করা। আমি আজকে সেটাই করে যাচ্ছি।
দলের নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলবো। জাতির পিতার আদর্শে নিয়ে চলবো। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবো এটাই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। একটা মানুষকে যদি একটু আশ্রয় দেওয়া যায়, তার মুখে হাসি ফোটানো যায় এর চেয়ে বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জীবনে আর কী হতে পারে। এটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিত্তবানদের দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহŸান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থ-সম্পদ, টাকা-পয়সা এগুলো কাজে লাগে না। করোনা ভাইরাসের সময় আপনারা দেখেছেন। এ করোনা ভাইরাসের সময় হাজার টাকার মালিক, হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার মালিকও কিছুই তাদের করার ছিল না। যারা বাংলাদেশে কোনোদিন চিকিৎসাই নেয়নি। তাদের কিন্তু এ দেশেই ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। কারণ টাকা থাকলেও কোথাও যেতে পারেননি তারা। আগে সর্দি-কাশি হলেও তারা উড়ে চলে যেতেন বিদেশে চিকিৎসার জন্য। করোনা ভাইরাস মানুষকে একটা শিক্ষা দিয়ে গেছে।
কাজেই সম্পদের পেছনে ছুটে নিজেকে মানুষের কাছে অসম্মানিত করার কোনো অর্থই হয় না। বরং দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে, একটা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।
চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ।
এ সময় সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা, সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.