প্রধানমন্ত্রীর উপহার অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা : জেলা প্রশাসক

মার্কেটগুলোতে মানুষজন অযথা ভিড় করছে : পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা ২৯ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হওয়া এই সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
সূচনা বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন চাঁদপুরসহ সারাদেশে এখন একটি ক্রিটিক্যাল সময় চলছে। বিশেষ করে বৈশি^ক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, আমি জানি অনেক মানুষই এই লকডাউনে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। কিন্তু আপনাকে আগামী দিন বেঁচে থাকতে হলে, আত্মীয় স্বজনকে দেখতে হলে, সবাইকে রক্ষা করতে হলে একটু কষ্ট করতেই হবে। তিনি বলেন, করোনা এবং রমজানকে পূুঁজি করে কিছুলোক সাধারণ জনগণকে ঠকানোর চেষ্টা করছে বিভিন্নভাবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, চারটি মোবাইল কোর্ট এখানে দিনরাত কাজ করছে। এছাড়া উপজেলাগুলোতেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই কোর্টগুলো সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ভেজালদ্রব্য ধরা ও বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন রকম কাজ করে যাচ্ছে। এসব কাজগুলোতে এবং গত দু’ মাস নদীতে জাটকা নিধন রোধে আমাদের সাথে ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিকগণ। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের এই সময়ে ত্রাণ তৎপরতা তথা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রত্যেক পৌরসভা, প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্যে অর্থ বরাদ্দ মিলেছে। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং পৌরসভার গুলোর জন্য শ্রেণি অনুপাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভিজিএফ কার্ডধারী যারা আছেন, তারা চাউলের পরিবর্তে নগদ টাকা পাবেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার প্রতিজনকে খামের মধ্যে মুজিববর্ষ ও করোনাকালীন সময়ের প্রদান করার জন্যে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন ব্যক্তি ছাড়া অন্যকেউ যেন এই অর্থ পেতে না পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপহার অপব্যবহার তথা দুস্থদের হাতে না দিয়ে অন্যদের হাতে যদি যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আশা করেন এরকম কিছু চাঁদপুরে হবে না। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিগণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাগণ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তিনি পৌরসভাগুলোর মেয়রদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের যে বরাদ্দটুকু দেয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষদের মাঝে বিতরণ করবেন। তিনি পৌরসভাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। এতে মানুষ বেশি উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি বলেন, সারা জেলায় যারা ভিজিএফ কার্ডের আওতায় আছেন, তারা সবসময় চাল পেতেন কিন্তু এবার তাদের নগদ ৪৫০ টাকা করে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর করোনাকালীন বিশেষ উপহার ৫০০ টাকা করে তারাই পাবেন যারা দুস্থ ও করোনাকালীন কর্মহীন। অবশ্যই মনে রাখবেন ভিজিএফ কার্ডধারী কেউ যেন এই টাকা না পান। সভায় পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, সিভিল সার্জন মোঃ সাখাওয়াতউল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চেšধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ, মতলব উত্তরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কয়েকটি পৌরসভার মেয়রগণ সংযুক্ত ছিলেন। সভায় সংযুক্ত কোন জনপ্রতিনিধি বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাই।
পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার) তার বক্তব্যে বলেন ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। আমাদের পুলিশ বাহিনী প্রতিনিয়ত লক ডাউন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সড়ক গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ছোট ছোট কিছু যানবাহন চলাচলা করলেও তা আমরা আটক করছি। কিন্তু মানবিক বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে কয়েকদিন পর ওই গাড়িগুলোকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এইকাজ গুলো অত্যন্ত কঠিন। এরা খেটে খাওয়া মানুষ। এদের দমিয়ে রাখা অত্যন্ত কষ্টকর। তারপরও সরকারি বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে আমাদের তা বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কেটগুলো খুলে দেওয়াতে সেখানে মানুষজন অযথা ভিড় করছে। কিন্তু সড়কে প্রয়োজন ছাড়া যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ কাজে সফলতা লাভ করা যাবে না। এ জন্যে তিনি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ মিজানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, মুজিববর্ষ ও করোনাকালীন সময়ে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। করোনারোধ কল্পে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। উক্ত বরাদ্দ থেকে ১ লাখ ২ হাজার মাক্স, ৬৫ হাজার সাবান এবং ৩ হাজার ৮শত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ক্রয় করা হয়েছে। সেখান থেকে চাঁদপুরের ৯১ টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৬০০ মাক্স, ৪৩২ টি সাবান এবং ২৪ টি করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং প্রতিটি পৌরসভায় ১ হাজার মাক্স, ২৪ টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্রতিটি উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বন্টন করা হয়েছে। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুস্থ ও ভূমিহীণদের মাঝে ৩৮ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। করোনাকালীন এইসব কার্যক্রমগুলো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ওচমান গণি পাটওয়ারীসহ আমরা তদারকি করছি। উন্নয়ন কাজগুলোও সেভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াতউল্যাহ তার বক্তব্যে বলেন, গত একমাসে চাঁদপুর ৪ হাজার ৫শ টেস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসেই ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে মৃত্যুর হারে যেখানে ১.৫ সেখানে চাঁদপুরে ২.৫ হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত ভয়ানক আশঙ্কা তৈরি করছে। তিনি বলেন, করোনা মুক্ত থাকতে হলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী মোঃ শরীফুল ইসলাম সভায় জানান, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকায় ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আমিরাবাদ-জনতা বাজারের মাঝামাঝি স্থানে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যেটি গত ৭মাস আগে মেরামত করা হয়েছিল। তখন শুষ্ক মৌসুম ছিলো। তিনি বলেন আমি গত বুধবার জায়গাটি ঘুরে এসেছি। বাঁধটি বর্ষা মৌসুমের আগেই মেরামত করা না হলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার এই প্রসঙ্গে সভায় জানান, উক্ত বাঁধের ৭৪ মিটার মেরামত করার জন্যে ৩৭ লক্ষ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ার সকল কাজ সম্পন্ন হলেও বাঁধ সেধেছে এর ফান্ডিং ব্যবস্থায়। কারণ গত ২৬ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারির মাধ্যমে জানিয়েছে কোন নতুন কাজ বা পুরাতন কাজের অর্থ ছাড় এ মূহুর্তে দেয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের এই অংশটি এখন মেরামত করা হচ্ছে না। কবে নাগাদ কাজটি করা যাবে তাও তিনি বলতে পারছেন না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাউদ গণি সভায় জানান যে, চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজার অংশের হরিসভা এলাকায় ১৩৭ মিটারে ৩৭ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। চাঁদপুর শহরের মোলহেডের ৪০ মিটার এলাকায় জরুরী মেরামত হিসেবে ২৭ হাজার ব্লক ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে। এতে খরচ হবে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। উক্ত কাজগুলি জরুরি মেরামত হিসেবে বরাদ্দ প্রাপ্তির আগেই কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। মে মাসের মধ্যে উক্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া জরুরী মেরামতের জন্যে ১০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুল্লাহ ভূইয়া সভায় জানান, চাঁদপুর সেতুর আগামী বছরের টোল আদায়ের জন্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। গত বছর ৮ কোটি টাকার বেশি ছিলো এবছর তা ৯ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন সড়ক ও জনপথের জায়গার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমাাদের বিভাগের অন্যন্য কাজ চলমান রয়েছে। তবে কয়েকদির আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের নির্দেশনার আলোকে নতুন কোন কাজ হাতে নেয়া যাবে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী সভায় বলেন, পদ্মা মেঘনার অভয়াশ্রমে জাটকা নিধনরোধে বিগত ২মাসে ৫৫৮ টি মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। ৩০০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং ২ কোটি মিটার কারেন্ট জাল আটক ও ধ্বংস করা হয়েছে। প্রকৃত জেলেদের হালনাগাদ তালিকা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাউল দেয়া হয়। যা তারা ঠিকমত পাওয়া বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে যাতে এধরণের অভিযোগ না আসে সেজন্য তিনি প্রস্তাব দেন চাউল নয় কৃষকদের মতো নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলেদের দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরির অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন, জাটকা নিধনে অনেক জনপ্রতিনিধি জেলেদের সহায়তা করেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অনেকে জাল, নৌকা অথবা উৎসাহ প্রদান করে জেলেদের নদীতে নামান। তিনি বলেন আগামী মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের আগে জেলেদের হালনাগাদ তালিকা প্রদান করতে হবে। কোন অপ্রকৃত জেলে এই তালিকায় থাকতে পারবে না। মৃত জেলেদের নাম বাদ দিতে হবে। তিনি জেলেদেরকে খাঁচায় মাছ চাষে উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন খলিলুর রহমানের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন মসজিদ ভিত্তিক কোন কর্মকাণ্ড যাতে না চলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারিভাবে জুমার একটি খোতবা মসজিদগুলোতে দেয়া হয়েছিল, সেটি যাতে ইমাম সাহেবরা পাঠ করেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন ইসলাম কাউকে আঘাত করেনা, মনে রাখবেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আমরা পিছিয়ে যাবো। এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক শেখ আরমান তার বক্তব্যে বলেন. বোরো কৃষকদের স্বতন্তভাবে কার্ড তৈরি করতে হবে। কিন্তু এটা করা হয় না। এছাড়া অন্যান্য কৃষক যারা যেটি ফলান তাকে সেভাবেই শনাক্ত করতে হবে। তবেই কৃষিতে শৃঙ্খলা আসবে, কৃষক উপকৃত হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে, সেই বিশাল স্থাপনা যাতে ভালো জায়গায় স্থাপিত হয় সে দাবী জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও চান চাঁদপুরসহ সারাদেশে যে স্থাপনাই হোক তা যেন পরিকল্পিত স্থানে হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বিশ^বিদ্যালয়টির জন্য একটি ভালো জায়গা নির্বাচন করা হোক। তিনি আরো বলেন, করোনায় গণসচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই, সবাইকে সজাগ, সতর্ক থাকতে হবে।
প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, করোনাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা কর্মহীন এবং দুঃস্থ মানুষের পাশে খাদ্য দ্রব্য নিয়ে বা প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে যেভাবে এগিয়ে আসছেন, সেটি প্রশংসার দাবী রাখেন। এভাবে অন্যান্যরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে কাউকে না খেয়ে কষ্ট পেতে হবে না। এছাড়া তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আইসিউ স্থাপন ও অক্সিজেন প্লান্ট তৈরিসহ সকল উন্নয়ন কাজের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, জেলা প্রশাসক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। জেলা প্রশাসক মৌসুমি ফল তরমুজের দাম নিয়ে এবং ওজনে বিক্রি করার জন্য চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তরমুজ কিনে আনবে শ হিসেবে আর বিক্রি করবে ওজনে এটা মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া তরমুজের উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে সাধারণ মানুষ মৌসুমি এ ফলটি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থেকে কিনতে পারেন। এছাড়াও সভায় যুক্ত ছিলেন জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদসহ আরো অন্যান্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *