বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত মানে বাঙালি সত্ত্বার প্রতি গভীর কুঠারাঘাত

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ এবং বাঙালির অবিচ্ছেদ্য নেতা বঙ্গবন্ধু-এই দু’টি শব্দকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। তাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত মানে বাঙালি সত্ত্বার প্রতি একটি গভীর কুঠারাঘাত। আমাদের প্রতিটি মানুষের মধ্যে যদি সত্যিকারের মনুষত্য থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এই উপলব্ধি থাকবে বঙ্গবন্ধুকে অশ্বীকার করে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে কখনোই এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আর এ কারণেই তারা চেয়েছে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি করতে। বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাইতো অগ্রগতির মহান লক্ষ্মণগুলোতে তারা বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করেছে।
কুষ্টিয়া জেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ এই স্লোগানে চাঁদপুর জেলায় কর্মরত জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভায় এ কথাগুলো বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, আমার দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের চাকরিজীবনে এ ধরনের কোন প্রতিবাদ সভায় যোগদান করিনি। আমারা আজ কতটুকু ভারাক্রান্ত মনে এখানে উপস্থিত হয়েছি সেটি আজকের এই সভায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে যারা কাজ করে থাকি তাদের ভেতরে অত্যন্ত গভীরভাবে হৃদয়ের ভেতর থেকে উৎসরিত হয় তখনই সে প্রতিবাদটি অত্যন্ত বাস্তবিক অর্থেই ভেতর থেকে ছুয়ে আসে।
আপনারা একটি বিষয় লক্ষ্য করবেন, এই ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। বিজয় দিবসের ঠিক দু’ দিন আগেই কিন্তু শহীদ বুদ্ধি দিবস। আমাদের এই দেশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সুতরাং বারবার এই ডিসেম্বর মাসকে বিভিন্নভাবে নাশকতার জন্য বেছে নেয়া হয়। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমাদের গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি- তারা প্রকৃতপক্ষে বাঙালি সত্ত্বায় আঘাত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে বেছে নেয়।
পুলিশ সুপার বলেন, এখন আমাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- কেন তারা এ ধরনের দুঃসাহস কিভাবে তারা পায়? আপনারা একটু গভীরভাবে চিন্তা করবেন। ২০০৮ সালে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তখন ২০২১ সালের একটা রূপকল্প তিনি প্রকাশ করেছিলেন। সেটি ছিল স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে একটি রূপকল্প। অর্থাৎ ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখানে যেটি মূল বিবেচনার বিষয় হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর আগে যে পরিকল্পনা করেছিলেন সেটি ঠিক সময়ের আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। শিক্ষা থেকে শুরু করে সকল প্রশাসনিক কাজে ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানেই মূল বিবেচ্য বিষয়। যখন পদ্মাসেতু দৃশ্যমাণ। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন যখন সত্যি হচ্ছে ঠিক তখনই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো আবার নতুন করে মাথাছাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ তাদের ভেতরে পশুত্ব এখনো জেগে আছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে যেভাবে সবাইকে একসাথে করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন ঠিক সেইভাবেই সবকিছু এগিয়ে যাচ্ছিল। তারপরই কিন্তু আমাদের সামনে ১৫ আগস্ট এসেছিল। সুতরাং আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের মাথায় রাখতে হবে অবশ্যই পরাজিত শক্তিকে তাড়া করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এগুলোকে নিশ্চিন্ন করার জন্য আমরা যারা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছি সবাই সম্মিলিতভাবে এই কাজগুলো এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের ভেতরের অনুভূতি থেকেই আমরা এখানে এসেছি। আসলে বাঙালি জাতী কখনোই মাথা নোয়াবার নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে বাঙালি কিন্তু তার চিন্তার শেষ প্রান্তে উপস্থিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন তার সুষ্ঠু চিন্তা, প্রাজ্ঞ এবং দুরদর্শী চিন্তা দিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক তখনই এ ধরনের অপশক্তি তাতে ব্যাঘাত করার চেষ্টা করে থাকে। আমরা সবাই সতর্ক থাকবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমানসহ জেলার সকলস্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *