ভাল কাজ করতে গেলে বাধা আসে, তবে সমস্ত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করেই সামনে এগিয়ে যাবো : নাছির উদ্দিন আহমেদ

চাঁদপুর প্রতিদিন রিপোর্ট :
সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ছেংগারচর মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে মায়া ভাইয়ের প্রতি আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তার জন্য আমরা মতলববাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। মায়া ভাইয়ের হাত ধরে মতলবের অনেক উন্নয়ন হয়েছে।

বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন কিভাবে দল পরিচালনা করতে হয়। সেজন্যই তিনি মায়া ভাইকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য করেছেন। এ জন্য আমরা চাদপুরবাসী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। মতলবের মাটি জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং মায়া ভাইয়ের ঘাটি। মায়া ভাই দলের জন্য বহুবার মৃত্যুর ঝুকি নিয়েছেন। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন।
রাজনীতিতে উত্থান-পতন হয়। গত নির্বাচনে মায়া ভাই মনোনয়ন পাননি। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা এড. নূরুল আমিন রুহুলকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তবুও মায়া ভাই বসে থাকেননি। তিনি এলাকায় এসে নেত্রী মনোনীত প্রার্থীর এবং নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। বলেছেন, নৌকাকে জিতাতে হবে- এটিই একজন নেতার গুণ। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে আমরা যা দেখেছি সেটি অপরাজনীতি। মায়া ভাই পরবর্তীতে তার বাড়িতে আসতে পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। মায়া ভাই, এখন শুধু মতলবেরই নেতা নয়, তিনি সারাদেশের নেতায় রূপান্তর হয়েছেন। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অনেক কিছুই দেখতে হবে। আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, চাদপুরের রাজনীতি নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে। অনেক কথা আছে তবে এই জনসভায় অনেক কিছুই বলতে চাই না। আমরা জানি, কোন ভাল কাজ করতে গেলে ঘরের ভেতর থেকেই বাধা আসে। তবে সমস্ত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করেই সামনে এগিয়ে যাবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু কোন অবস্থাতেই প্রতিহিংসা থাকতে পারে না। আজকে সেই প্রতিহিংসা আমাদের দলের ভেতরে ভর করেছে। তাই আমি মায়া ভাইকে অনুরোধ করি, চাদপুরের রাজনীতি সম্পর্কে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ করে যেভাবে ভালো মনে করেন সেভাবে করুন। যদি আমাদেরকে বাদ দিতে হয়, আমাদের কোন আপত্তি নেই। কারণ, আমরা দীর্ঘ দিন দলের নেতৃত্বে আছি। সামনে যদি দলের নেতৃত্ব নাও পাই আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে যাদেও শ্রমে-ঘামে এই দল, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই দল সেই দল কোন অবস্থাতেই কোন অপশক্তির হাতে চলে যেতে পারে না। যে অপশক্তি দলে ভর করেছে তা দূর করতে হবে। দলকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু দেশের উন্নয়নের জন্যই হয় না, রাজনীতি মানুষকে সৌজন্যতাবোধ শেখায়, নম্রতা শেখায়। আজকে আমাদের দলের ভেতরে থেকে দলকে বিভাজন করার জন্য যারা উঠে পড়ে লেগেছেন তারা কোথায়। তারা নাই। তারা থাকবেও না- ইনশাল্লাহ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মায়া ভাইকে মূল্যায়ণ করেছেন এ জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা সবাই মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছি, আগামীতেও করবো।

বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটোয়ারী

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ ও উপজেলা আওয়ামী পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস এর সঞ্চালনায় আরোও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী,জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রব ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী আইয়ুব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পৌরসভার মেয়র রফিকুল আম জজ, ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন বেপারী প্রমুখ।


উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মানিক, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ আখন্দ,অ্যাড জহিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান কালু ভুঁইয়া, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধান, রফিকুল ইসলাম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গজরা ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হানিফ দর্জি, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন সরকার,তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, সাবেক উপসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম আব্দুর রশিদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি মাজাকাত হারুন মানিক, মজিবুর রহমান,উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জহিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী মুক্তার হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল মাহমুদ টিটু,অ্যাড: সেলিম মিয়া, মোহনপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক চৌধুরী বাবুল, ফতেপুর পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী, সুলতানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক খোকন, ফরাজী কান্দি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ, জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজী, কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান সোবহান সরকার সুভা, ষাটনল ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উল্লাহ সরকার, সাদুল্লাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমেদ মুন্সি, বাগানবাড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া, দূর্গাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আবুল খায়ের, ইসলামাবাদ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুল হোসেন বাবু বাতেন , উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ডাবলু,ছেংগারচর পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক জাকির খান,ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ সরকার লিখন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তামজিদ সরকার রিয়াদ প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.