মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় প্যাথলজিতে ভরপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে কড়ই তলায় (কড়ই গাছের নিচে) জমে উঠেছে প্যাথলজি। গ্রামাঞ্চলের সাপ্তাহিক হাট বাজারের বিক্রেতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হাঁক-ডাক দেন, তেমনি ভাবে এসব প্যাথলজির নিয়োজিত দালালরা রোগীদের ডাক-খোঁজ করে ডাক্তার দেখান ! এমন চিত্র দেখা যায় নিয়ম না মেনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখের ৩০/৪০ ফুটের মধ্যে গড়ে ওঠা প্যাথলজিগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সম্মুখে এবং আশপাশে গড়ে উঠেছে ১০টি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র বা প্যাথলজি। অতীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশেপাশে গড়ে ওঠা প্যাথলজি মালিকদের নিয়োজিত পুরুষ দালালরা হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে গেলেও বর্তমান সময়ে যোগ হয়েছে মহিলা দালাল। এছাড়া নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে একে একে গড়ে উঠেছে চারটি প্যাথলজি। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে হয় এই চার প্যাথলজির সামনে দিয়ে। রোগী ও তার স্বজনরা যখনই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করবে, ঠিক সেই সময় ওই প্যাথলজির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দালালরা ” আপা এখানে” বলে ডাক-খোঁজ দেয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্যাথলজির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দালালরা যে আপার কথা বলছেন তারাই ডাক্তার। আর এই সকল ডাক্তাররা হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ঐ সকল ডাক্তারগণ কে তাঁদের চেম্বার এ নিয়মিত ও সময়মতো দেখা না গেলেও দেখা মিলে বিভিন্ন প্যাথলজিতে। অফিস সময় ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্যাথলজিতে বসে রোগী দেখার বিষয়ে কয়েকজন ডাক্তার কে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
সরকারি হাসপাতালে সম্মুখে গড়ে ওঠা প্যাথলজি গুলোতে রোগীদের ডাকাডাকি করে ডাক্তার দেখানোর বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন খোদ ওই প্যাথলজিতে রোগী দেখা ডাক্তারগণ। হাসপাতালে কর্মরত একাধিক কর্মচারী জানান, অতীতে তিন-চারজন পুরুষ হাসপাতাল চত্বরে দালালি করত। কিন্তু বর্তমানে পুরুষদের চেয়ে মহিলা দালালের সংখ্যাই বেশি। আর এ সকল দালালরা কোনো-না-কোনো প্যাথলজিতে নিয়মিত বেতনভুক্ত অথবা কমিশনের কাজ করে থাকেন। এই সকল প্যাথলজির মালিকরা স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের কাছে নিরুপায়। স্যাররা তাদেরকে বেশ কয়েকবার সর্তক করলেও প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতলে ভিতরে ঢুকে দালালি করছে।
হাসপাতাল সম্মুখে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এই এলাকাটা যেন মাছ বাজার! বাজারের মাছ বিক্রেতারা ডেকে ডেকে মাছের ভাগ বিক্রি করে। আর প্যাথলজির মালিক ও তাদের দালালরা রোগীদের ডেকে ডেকে ডাক্তার দেখান। এমন পরিস্থিতি দেশের অন্য কোন উপজেলায় আছে কিনা আমাদের জানা নেই। অনেক সময় রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি নিয়ে মালিকপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির মতো ঘটনা হচ্ছে!
সরকারি হাসপাতালে সামনে এ ধরনের প্যাথলজি ব্যবসা পরিচালনা করা যায় কিনা বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, প্যাথলজিগুলোর অনলাইন লাইসেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল থেকে কত দূরত্বে হবে হবে তার তথ্য নেই, তবে অন্য কোনো আইনে রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি এই বিষয়ে আইন থেকে থাকে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *