মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আমাদের প্রিয় সুযোগ্য অগ্রজ আবদুল মমিন খান মাখন

মাহাবুবুর রহমান সেলিম ::
আজ যার কথা অতি শ্রদ্ধার সাথে বলতে হয়, যিনি ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর ও মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আমাদের প্রিয় চাঁদপুরের সুযোগ্য অগ্রজ। আমার মনে আছে সেই ঊনসত্তর এগারো দফা উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের কথা। আমি তখন অনেক ছোট প্রতিদিন শহরের রাজপথ ছিল মিছিলে মিছিলে উত্তাল ভরপুর এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সোচ্চার, আমি ও মিছিলের অগ্রভাগে থাকতাম প্রতিদিহেসেনই আমি তাকে দেখতাম মিছিলে আমাকে দেখে একটু মুচকি কাছে আসছেন মাঝে মাঝে মিছিল শেষে পাশের দোকান থেকে চকলেট কিনে দিতেন। ঊনসত্তরের ছাত্র আন্দোলনে সমগ্র তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মতো ছাত্র ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয় চাঁদপুর মহকুমায়। যা ছিল এগারো সদস্যবিশিষ্ট। তিনিও সেই কমিটিতে ছিলেন। এই কমিটির কনভেনার ছিলেন রবিউল খান কিরণ সহকারী কনভেনার অজয় ভৌমিক আর যারা সাথে ছিলেন আবদুল মমিন খান মাখন, আব্দুর রহমান, এডভোকেট মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, ওয়াহিদুর-রহমান, সফিউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ আবেদ মনসুর, হানিফ পাটোয়ারী, আবু তাহের দুলাল প্রমুখ।
সেই ঊনসত্তরে চাঁদপুরে ছাত্র আন্দোলনের আরো ব্যাপক বিস্তৃতি ও জোরদার হয় যখন পুলিশের গুলিতে বারো বছর বয়সী শিশু এবং চোদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরী শহীদ হন। সে সময় জাতীয়ভাবে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ জেলে থাকায় চাঁদপুরের বিশিষ্ট একজন মহিলা রাজনীতিবিদ আমেনা বেগম আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাকেও জেলে যেতে হয়, এদিকে মিজানুর রহমান চৌধুরী মুক্তি পাওয়ায় তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অদম্য স্পৃহায় ছাত্র-জনতার দুর্বার আন্দোলনে আব্দুল মমিন খান মাখনের সেদিনের ভূমিকা আজ শুধুই অতীত ইতিহাস। পরবর্তীতে সত্তরের নির্বাচন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, পঁচিশে মার্চের পাকবাহিনীর নির্মম ধ্বংস যজ্ঞ এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা, মমিন খান মাখন সেই ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েন নির্দ্বিধায় স্বাধীনতা যুদ্ধে। চাঁদপুর মহকুমা বিএনএফের কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ভাজন এবং একজন মেধাবী ব্যক্তিত্ব এবং তিনি অতি গুণীজন। তিনি কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন নাই ,এবং একজন ব্যতিক্রম ধর্মী মানুষ, দুর্নীতিতে থেকে অনেক দূরে বিশুদ্ধতার আঙ্গিকে নিজেকে সারা জীবন আগলে রেখেছেন। তিনি ছিলেন পরিখ্যিত এবং কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি বরং দলের কোনো অন্যায় সমর্থন দিতেন না। সমালোচনা এবং বিশেষ করে আত্মসমালোচনায় তিনি ছিলেন উদার মানসিকতাসম্পন্ন। নানা ঝড়ঝাপটা জীবনযুদ্ধে হার মানার পাত্র ছিলেন না। বন্ধুবান্ধব বিশেষ করে সকল পরিচিত মহলে তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয় ভালো মানুষ।বুদ্ধি বিবেচনায় সহনশীলতা, অবিচল বোঝাপড়া নিজের দখ্যতা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গুরুত্ব সহকারে গ্ৰহন করতেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রশান্তির ব্যস্থজীবন ছিল ওনার।
লেখক : মাহাবুবুর রহমান সেলিম, কবি ও লেখক

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *