মৈশাদীতে চাল কম দেয়ার অভিযোগ আ’লীগের, ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-অপপ্রচারে মেম্বারদের নিন্দা

চাল কম দেয়ার নামে ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগে মেম্বারদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের চাল কম দেয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী। তবে তাদের এ অভিযোগকে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাই ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়য়েছেন। ৮ মে শুক্রবার মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদে সকল পুরুষ এবং নারী মেম্বাবারগণ একত্রিত হয়ে এমন মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রচারের প্রতিবাদ এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। পাশাপাশি যতোদিন পর্যন্ত এই অপপ্রচারের বিচার না হবে, ততদিন তারা সরকারি কোনো ত্রান বিতরণ করবেন না এবং প্রয়োজনে প্রদত্যাগ করার হুঁসিয়ারি দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের  কিছু সংখ্যক লোক ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়ে চাল কম দেয়ার অভিযোগ তোলে।

এদিকে সকল মেম্বারদের পক্ষে ৩নং বজলুল গণি জিলন বলেন, গতকাল মৈশাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শাহালম মিয়াজী একটি অনাকাঙ্ক্ষিত-অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটায়। আমরা না কি চাল চুরি করি, ত্রান দেই না, বলে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। কারণ, ওইদিন আমরা চাউলই বিতরণ করিনি। এই পরিষদের ১২ জন মেম্বারের মধ্যে ১০ জনই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমরা এই করোনার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেয়াম্যনসহ প্রতিটা মুহূর্ত সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জনগণের কলল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে চেয়াম্যান যদি অনিয়ম করতো তবে সরকার দলের মেম্বার হয়ে আমরাই আগে প্রতিবাদ করতাম।

জেলেদের চাল কম দেয়ার নামে ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগে মেম্বারদের অবস্থান।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউনিয়নে মোট ২৬৭ জন জেলে রয়েছেন। কিন্তু এ বছর অন্যান্য ইউনিয়নের মতো আমরাও কম বরাদ্দদ ১৯৮ জনের) পেয়েছি। যার ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ২৬৭ জনের চাউল ১৯৮ জনের মাঝে ভাগ করে দিয়েছি।

৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বেপারী বলেন, সারা বাংলাদেশে মৈশাদী ইউনিয়নের সুনাম রয়েছে। আমাদের পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক সমগ্র চাঁদপুর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। আমি দুই বারের নির্বাচিত মেম্বার। এই পরিষদনে কখনোই চাল চুরির মতো ঘটনা ঘটেনি। যারা এমন মিথ্যা অপবাদ-অপ্রচার করছে, আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম বেপারী এবং নারী মেম্বার ও ইউনিয়ম মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রতিটা গরীব অসহায় পরিবারের মাঝে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের পরিষদের নামে যারা মিথ্যা অপপ্রচার করছে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ফারুক সরকার বলেন, এই পরিষদ কখনোই সরকারি ত্রান অত্মসাৎ করেনি। অপপ্রচারের বিষয়টি আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি।

এসময় অন্যান্য মেম্বারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হাকিম গাজী, সেলিম বেপারী, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল বারেক, আবুল হোসেন খান মনা, সাহিদা বেগম, জাহেদা বেগম।

মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামানা মানিক বলেন, আমরা পুরো পরিষদ সরকারের উউন্নয়নসহ সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রতিটি ত্রার সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই দুর্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সরকারের সহায়তায় পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নে অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এমন ভালো কাজে ঈশ্বান্নিত হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়াজী আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটাতে চাচ্ছে। যার প্রতিবাদ জানানোর ভাষাও আমার জানা নেই। আমি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে এমন অপপ্রচারকারিদের বিচার দাবী করছি।

মনিরুজ্জামান মানিক আরো বলেন, গত ৫ মে উপজেলা প্রশাসন থেকে অসহায়দের জন্যে ১০টাকা কেজি ধরে চাল বিতেণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়াতা কর্মসূচির তালিকা চাওয়া হয়। এবং ৬ মে দুপুর ১২টার মধ্যে সে তালিকা অনলাইনে জমা দেবার জন্যে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ওই দিনই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সস্পাদককে তাদের কোটার ১৩০ টি নামের তালিকা জমা দিতে বলি কিন্তু বার বার বলার পরেও তারা তালিকা জমা দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা শুধুমাত্র পরিষদের এবং এমপি মহোদয়ের কোটার নামের তালিকা জমা দেয়। তাদের জনে এই ইউনিয়নের বরাদ্দ থাকার পরেও কম নাম পাঠাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বিএনপির মার্কায় দল থেকে নির্বাচিত হলেও আমি কোনদিনও দলীও মনোভাব নিয়ে কাজ করিনি। ইউনিয়নের সবাই আমার প্রিয় নাগরিক। নাগরিকদের মধ্যে দলীয় বিভাজন সৃষ্টি করে আমি কখনোই কাজ করি না।

চাল কম দেয়ার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জড়ো হয় স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের অনুসারী।

ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি লিটন সরকারের অভিযোগ, বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক মনগড়াভাবে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করছেন। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা ইউনিয়নবাসী পাচ্ছে না। ইউনিয়নের জেলেদের চাল কম দেওয়ার কারণে জেলেরা বিক্ষোভ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ত্রাণ সমন্বয় কমিটির সাথে সমন্বয় না করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নামে তালিকা তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার মেম্বারদের প্রতিবাদের খবর পেয়ে তাৎক্ষণাত সেখানে উপস্থিত হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন সরকার। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমারও কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী মানুষ আমাদের কাছে চাল কম দেয়ার অভিযোগ করেছে। আমি এর বিচার চাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.