শাহরাস্তিতে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে, ৫ যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে চালকসহ ৫ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব নরহ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান খোকনের পুত্র মোঃ শাহপরান তুষার (২২), একই এলাকার নরপাইয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র শাকিল (২৩), চাঁপা কেশতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র রেজাউল করিম (২৩), যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র নয়ন (২৪) ও গাজীপুর সদর উপজেলার উত্তর খাইলকুর গ্রামের বাবুল হোসেনের পুত্র সাগর হোসেন (২৪)।
শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানায়, রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা থেকে মনোহরগঞ্জ যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ৪৩-৩৭২১) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্ব নরহ গ্রামের মোল­ার টেকে (বাঁক) পুকুরে পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, গাড়িটি রাত সাড়ে ১২টার পর এখানে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তখন আশপাশে কেউ না থাকায় গাড়িটি পুকুরেই পড়েছিল। এক পর্যায়ে রাস্তা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল যাওয়া পথে গাড়িটি পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহী ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন জানতে পারে। এ সময় মসজিদের মাইকে এলাকা ঘোষণা দেয়ার পর লোকজন এসে গাড়ির কাঁচ ভেঙে ভেতর থেকে তাদের মরদেহ বাইরে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোরশেদুল আলম ভুঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতি আর বাঁকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যারা মারা গেছে তাদের একজনের বাবার আমাদের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় তাদের এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক (ডিএডি) মোঃ শাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার বাঁকটি ছিল বিশাল। রাস্তাটির সোজা সামনের দিকে পুকুর। এখানে যে একটি বাঁক আছে বা সেটি ঘুরে যেতে হবে তা তারা বুঝতে পারে নাই। সোজা গিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে প্রাইভেট কারটি উল্টে যায়।
তিনি বলেন, নিহতদের সবার বয়সই ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। হয়তো তারা বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে হয়তো আনন্দ-ফুর্তিতে ছিল। এ দুর্ঘটনাটি মূলত অসতর্কতার কারণেই ঘটেছে। একটি রাস্তার কোথাও বাঁক থাকলে গাড়ি ¯েøা করে টার্নিং নিতে হবে- সে বিষয়টিতো মাথায় থাকতে হবে। গাড়িটির গতি বেশি ছিল তাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, শীতের সময় হওয়ায় গাড়ির জানালাও আটকানো ছিল। এছাড়া চারিদিকে অন্ধকার। পুকুরে পানি খুব বেশি না হলেও গাড়িটি যখন পানিতে পড়েছে তখন গাড়ি উল্টে চাকা উপরের দিকে আর বডি চলে যায় নিচের দিকে। এ কারণে তারা জানালা খুলে আর বের হতে পারেনি। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাহরাস্তির ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করেছে। পরে আমরা পুলিশের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করে দিয়েছি।
শাহরাস্তি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, নিহতদের মরদেহ উঘারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পোস্টমর্টেম ছাড়াই নিতে চায় স্বজনরা। কিন্তু দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে মদের বোতল পাওয়া যাওয়াসহ কিছু কারণে পোস্টমর্টেম ছাড়া নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরে আপত্তি করে পুলিশ। এ কারণে সন্ধ্যার পর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.