ইতালি

সংক্রমণ শুরুর একমাস পর টের পাওয়ায় ইতালির এই অবস্থা

সরকারিভাবে গত ফেব্রুয়ারির শেষে প্রথমবারের মতো করোনা রোগী শনাক্ত করা গেলেও নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ইতালিতে মহামারি এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল জানুয়ারিতেই। আজ ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, রোগী শনাক্ত না করতে না পারার কারণেই ইতালির আজ এই অবস্থা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে ওই গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার খবর জানিয়ে বলছে, ইতালিতে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেশটির লোম্বার্ডি অঞ্চলের ছোট শহর কোডোঙ্গোতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, ইতালিতে করোনায় মৃত প্রায় ২৬ হাজারের মধ্যে অধিকাংশই লোম্বার্ডির।

ইতালির ব্রুনো কেসলার ফাউন্ডেশনের স্টিফানো মারলার জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘আমরা গবেষণা শেষে জানতে পেরেছি ২০ ফেব্রুয়ারির আগে লোম্বার্ডিতে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন, এর অর্থ হলো মহামারি এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল অনেক আগেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছি, জানুয়ারিতে তো অবশ্যই সম্ভবত তারও আগেই কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’ তবে মাত্র একজন নয় অনেক মানুষে ইতালিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছেন।’ প্রসঙ্গত, চীনের বাইরে প্রথম কোনো পশ্চিমা দেশ হিসেবে ইতালিতে ব্যাপকহার সংক্রমণ শুরু হয়।

নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর নীরবে কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা তার বিস্তার ঘটিয়েছে ইতালিতে। অনেকে সংক্রমিত হয়ে কমিউটিনির অন্য অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু তাদের শনাক্ত করা হয়নি। আর তাইতো প্রথমবারের মতো আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতই বাড়তে শুরু করে।

করোনায় বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। চীনে উৎপত্তি হলেও কিছুদিন পরই করোনার প্রকৃত মহামারি রুপ প্রথম দেখা দেয় ইতালিতে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রাদুর্ভাবের নতুন কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপের নাম ঘোষণা করে। এখন ধারণা করা হচ্ছে, রোগী শনাক্ত করার ব্যর্থতাই ইতালিকে বিপর্যস্ত করেছে।

ইতালিতে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯ লাখ আর স্পেনের ২ লাখের পর ইতালিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি। যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুস্থ হয়েছেন ৫৭ হাজারের বেশি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.