সবার সহযোগিতা থাকলে ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে : জেলা প্রশাসক

জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
: নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেছেন, ২৫ মার্চের কালো রাতে ঘটনা সবাইকে কাঁদায়। কিন্তু এ গণহত্যা দিবস কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইনি প্রশ্ন আসতে পারে। কারণ, তার চিত্র সেইভাবে তুলে ধরতে পারি নি। ২০১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয়ভাবে এ দিবসটি পালন করার নির্দেশ দেয়ায় আজ আমরা এ দিবসটি পালন করতে পারছি। সবার সহযোগিতা থাকলে এ দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, পাক-হানাদার বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা যেন বাস্তবায়ন না হয়। এ গণহত্যার মধ্য দিয়ে তারা চেয়েছিলো বাংলার স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দিতে। এত বর্বরভাবে আঘাত করেছিলো তারা, তা কেউ বুঝতে পারে নি। একযোগে সমস্ত বিভাগীয় শহরগুলোতে এদিনে গণহত্যা চালিয়েছিলো পাক-হানাদার বাহিনীরা।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এই ইতিহাসগুলো পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে। কারণ এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হঠাৎ করেই স্বাধীনতা পাওয়া যায়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। এ আলোচনায় যারা আমরা আছি তাদের দায়িত্ব থাকবে নিজে সঠিক ইতিহাস যেনে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।
নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) বলেন, পাক-হানাদাররা পরিকল্পনা করেছিলো কাদেরকে হত্যা করলে বাঙ্গালী জাতিকে দমন করা যাবে। তৎকালীন রাজারবাগ আমাদের বড় স্থাপনা ছিলো। সেইখান থেকেই তারা গণহত্যা চালায়। ২৫ মার্চ সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিলো হামলা চালানো। রাজারবাগে কর্র্মত পুলিশ সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে থ্রী নট থ্রী রাইফেল দিয়ে আদা ঘন্টা যুদ্ধ করে। পাক-হানাদার বাহিনী পিছিয়ে গেলেও পরে আরো শক্তি সঞ্চার করে আবার আঘাত হানে। ওইসময় প্রায় সাড়ে ৩ঘন্টা যুদ্ধ করে। প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য ওইসময় শহিদ হন।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমারা স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন না দেখে যেতে পারলেও তাঁরই সুযোগ্য কন্যা সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন। এখন আমাদের লক্ষ্য অর্থনৈতিক মুক্তি। আমাদের দায়িত্ব হলো সবাই একহয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্বায়ন করা। এদেশকে সামনের দিকে আরো এগিয়ে নেয়া।
চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ’র সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, এনএসআই উপ-পরিচালক শাহ মোঃ আরমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ছড়াকার ডা. পিযুষ কান্তি বড়ুয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অসিম চন্দ্র বনিক, চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুর রশিদসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।
আলোচনা সভার পূর্বে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক একেএম দিদারুল আলম ও পবিত্র গীতা পাঠ করেন শিল্পকলা একাডেমীর প্রশিক্ষক পরিমল দাস নুপুর।
আলোচনা সভা শেষে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *