সাগর উপকূলীয় ইলিশ চাঁদপুরের ভেবে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা

আশিক বিন রহিম :
হঠাৎ করে ইলিশের আমদানি বেড়েছে চাঁদপুরে বড় স্টেশন মাছঘাটে। ঈদের পর থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মাছের আড়তে প্রতিদিন হাজার মণ ইলিশ আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দামও আগের তুলনায় কমেছে কিছুটা। তবে হঠাৎ করে চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি বাড়লেও হাসি ফুটেনি এখানকার পদ্মা-মেঘনার জেলেদের মুখে। কারণ চাঁদপুর মাছঘাটে প্রতিদিন যে হাজার মণ ইলিশ আসছে তার প্রায় ৯০ ভাগ সাগর উপকূলীয় নদীর। যা স্থানীয়ভাবে নামার ইলিশ নামে পরিচিত।


জানা গেছে, সাগরে এবং সাগর কাছাকাছি বেষ্টিত মোহনায় টানা ৬৪ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময়সীমা শেষ হওয়ায় সেখানে এখন জেলেরা উৎসব করে ইলিশ আহরণ করছে। আর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার কাঙ্খিত ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরছে এখানকার জেলেরা।যার ফলে দক্ষিণাঞ্চল বা নামার ইলিশেকে চাঁদপুরের ইলিশে ভেবে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা।
২৭ জুলাই চাঁদপুর মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের পেছনে ডাকাতিয়া নদীতে নৌঙর করা সাড়ি সাড়ি ছোট-বড় মাছের ট্রলার। কাঠের তৈরী দৃষ্টিনন্দন এসব থেকে শ্রমিকরা জুঁড়িতে করে নামাচ্ছে বরফ দেয়া ইলিশ। এছাড়াও সড়কপথে পিকআপে করে আনা হচ্ছে এইসব ইলিশ। এগুলো হাতিয়া, সন্দীপ, ভোলা, দৌলতখান, চরফ্যাশনসহ সাগর ও উপকূলের নদ-নদী থেকে চাঁদপুর মাছঘাটে আনা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। যেগুলো স্বাদের দিক থেকে সেরকম সুস্বাদু না। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, এসব ইলিশকে চাঁদপুরের ইলিশ বলে চালিয়ে দিচ্ছে এখানের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা।


মাছ বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৫শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা, ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ইলিশের দাম ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা, এক কেজির ওপরের ইলিশের দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, দেড় কেজির ওপরের গুলো বিক্রি হয় ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা। তবে চলমান লকডাউনের কারণে ক্রেতারা ঘাটে আসতে না পারায় বেচাকেনার অবস্থা ভাল না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ঈদের পর থেকে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২শ’ মণ ইলিশ আসে ঘাটে। কিন্তু এই পরিমানটা আশানুরুপ নয়।
অতিতে এই সময়টাতে এরচেয়ে কয়েকগুণ বেশি ইলিশ আমদিনি হতো। বর্তমানে আমাদের চাহিদা রয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার মণ ইলিশের অথচ আমদানি হচ্ছে ১ হাজার মণ।
তবে আস্তে আস্তে আমদানি আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম, তখন আমদানি আরও বাড়বে। এখন যে ইলিশগুলো আসছে, তার সাইজ খুবই ছোট। এই ঘাটে আসা ৯০ ভাগ ইলিশ দক্ষিণাঞ্চলের।
ইলিশ কিনতে আসা আরিফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ইলিশের দাম কমেছে শুনে মাছ ঘাটে এলাম। কিন্তু এসে দেখি সেই আগের মতোই ১ হাজার ১২শ’ টাকা কেজি। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের এই দামে ইলিশ কিনে খাওয়াটা খুব একটা সম্ভবপর নয়। তাই মাছ দেখেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সারা দেশে চাঁদপুর ইলিশের শহর হিসেবেই পরিচিত। ইলিশের সবচেয় বড় ল্যান্ডিং সেন্টার এটাই।
তিনি জানান, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ইলিশের মৌসুম। অতিবৃষ্টিতে পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে গেলে চাঁদপুরের নদীতে বেশি ইলিশ ধরা পড়বে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *