স্মরণ : মিজানুর রহমান চৌধুরী ।। ‘বাবাকে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি’

বেনজির চৌধুরী আইভি ::

আজ বাবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বাবার অনুপস্থিতি অনুভব করি।

তিনি শুধু মহান রাজনীতিবিদ না- তিনি একজন মহান সন্তান, ভাই, স্বামী, মহান পিতা, শশুর, দাদা, নানা, মামা, চাচা, বন্ধু। মোট কাথা একজন পরিবারের যত দায়িত্ববোদ বুঝায় তিনি তা সবকিছুই পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। আমি তার মেজো ছেলের বৌমা হিসাবে নিজেকে খুব ধন্য মনে করি।

আমার মনে সব সময় একটা কথা ভেবে ব্যথিত করে, যা আমি আজ প্রকাশ করতে চাচ্ছি। জানি না কে কিভাবে কথাটা নিবে। তারপর আমি কাউকে দোষারোপ না করে কথাগুলি আবেগে বলছি। আমার বাবাকে অনেকে কান্ডারি বলে আখ্যায়িত করত। আমার বিবাহিত ৩৩ বছরের জীবনে আমিও তাই দেখেছি ও তৎকালীন আগের কিছু কথা বাবার মুখ থেকে শুনেছি। বাবা নাকি সব সময় বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দুঃসময়ের ক্রান্তিকালে কান্ডারী হয়ে হাল ধরেছেন। যেমন ১৯৯৬ সনে আমি দেখেছি- বাবা নিজের জন্য কিছু না চেয়ে এরশাদকে জেল থেকে মুক্তি করেছে। অথচ আ’মী সরকার অত্যান্ত সম্মানের সাথে বাবাকে রাষ্ট্রপ্রতি অধিস্তিত পদে প্রস্তাব প্রেস করেছিলেন। কিন্তু বাবা সব সময় তার বিবেককে প্রাধান্য দিতেন কারণে তৎকালীন জাতীয় পার্টির প্রতি তার যে ওয়াদাবদ্ধতা ছিল বাবা সবকিছুর উর্ধে তার সেই বিবেচনাকে প্রধান্য দিয়েছেন। তিনি কখনো বিবেকের কাছে হার মানেননি। তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারকে সাপোর্ট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে। বাবার কাছে এটাও শুনেছি তৎকালীন সময়ে বাবা এরশাদ সরকারের সঙ্গে যদি সরকার গঠন না করত তাহলে বিএনপি এবং এরশাদ সরকার মিলে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলত। বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দ্বিতীয় তম আ’মী ২য় সেক্রেটারী প্রথম কেবিনেট তথ্য ও বেতার মন্ত্রী ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম ভূমিকা এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অনেক দিন জেলও খেটেছেন, চাঁদপুরের নদী ভাঙনরোধ, গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি, টেলিফোন সব কিছুই তার অবদান।

কিন্তু আমার খুব দুঃখ হয় যে, যে মানুষটা এতো দেশের জন্য ত্যাগ শিকার করেছে অথচ তার নামে এখন পর্যন্ত কোন রাস্তাঘাট কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মাটিতে এমনকি তার নিজ এলাকায় চাঁদপুরেও কোথাও কোন কিছু হয়নি। তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও আওয়ামী লীগ সরকারের উপর্দেষ্টা হিসাবে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তার পরিবারে কোন সন্তান এখন পর্যন্ত কোন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেনি। কারণ, তিনি কখনো পছন্দ করতেন না। অথচ আমাদের কতই না চরাই -উৎরাই এর মধ্য দিয়ে জীবন গিয়েছে। ১৯৯১ সনে খালেদা জিয়া বিএনপি সরকার সিনেমার মত করে আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ঔষধ কোম্পানি, সারা বাংলাদেশের অফিস এবং বাসা বাড়িতে বোমা ফেলে আগুন জালিয়ে আমাদেরকে নিঃশ্বেস করেছে। অথচ আমরা কিছুই চাইনি। শুধু চেয়েছি বাবার আত্মসম্মান এবং আমি পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে বলতে চাই যে বাবার নামে এদেশের মাটিতে কিছু প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই আমার দেশ বাসির কাছে আমার সরকারের কাছে এবং চাঁদপুরবাসির কাছে আশা করছি।
-বেনজির চৌধুরী আইভি, লিগ্যাল চেয়ারম্যান, গুলশান লেডিস ক্লাব, স্বামীঃ আমানুল্লাহ মিজান চৌধুরী (রাজু)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *