হাইমচরের ইশানবালা রক্ষায় আজ থেকে ৮৩ লাখ টাকার কাজ শুরু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ইশানবালা এলাকার নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। ইতিমধ্যে  সেখানের বিপুল সংখ্যক পরিবার তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়েছে। প্রায় আধাকিলো এলাকায় মেঘনার এই তান্ডব চলছে দীর্ঘদিন ধরে।  আর  এই ভাঙন ঠেকাতে এই ভরা বর্ষাতেই ইমারজেন্সি  কাজের অংশ হিসাবে পাউবো  ৮৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে যাচ্ছে। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার জানান, এখানের ৫ শ ফুট  নদী তীর এলাকায় ২ শ ৫০ কেজি ওজনের  ১৫ হাজার জিও বেগ ফেলা হবে। কাজটি ঠিকাদারের মাধ্যমে আজ শুক্রবার থেকেই ফেলা শুরু হবে। তবে তিনি জানালেন কোন্ ঠিকাদার কাজটি করছেন তা এখনো ঠিক হয়নি। এদিকে ২২ জুলাই বুধবার নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি এবং অধঃস্তন কর্মকর্তারা।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার বলেন, আগুনে পুড়লে বসতভিটা থাকে কিন্তু নদীতে ভেঙ্গে গেলে কিছুই থাকে না। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির একান্ত প্রচেষ্টায় ও স্থানীয় চেয়াম্যানের কারনে ঈশাণবালার  নদী ভাঙ্গন এলাকার জন্য ৮৩ লক্ষ টাকার কাজের বরাদ্ধ পেয়েছেন।
এলাকাবাসীকে পাউবো নির্বাহী বলেন, আপনারা জিওব্যাগুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন। বস্তাগুলোর যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা আপাদেরই দায়িত্ব। কারন জিওব্যাগ ছিদ্র হলে কোন মূল্য থাকে না। তাই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব  আপনাদের বেশি।
এদিকে, পানি বাড়তি, প্রবল স্রোত,  এবং বন্যার পদধ্বনির মধ্যে ব্লক ছাড়া কতুটুকু টিকে থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন,  যেহেতু   এলাকাটা ভেঙেই চলেছে, সেহেতু একে রক্ষা করার চেষ্টা  আমাদের করতে হবে। এই কাজ করার সময়  আগামী ১৫অক্টোবর পর্যন্ত  চলবে। তিনি এখানে ব্লক ফেলবার কথা হয়নি,  ফেলতে হয়েছে জিও বেগ। এখন জিও বেগ এখানে যতোটা রাখা যায় সে মতেই কাজ হবে। তবে এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন এই কাজ যদি অনিয়ম আর দুর্নীতিতে হয় তাহলে কোন লাভ হবে না। তাই  জোর তদারকির প্রয়োজন।
নীল কমল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন সর্দার বলেন, এবছরের পানি বৃদ্ধির কারনে ঈশালবালা বাজারে অর্ধশতাধিক দোকান ও শতাধিক বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। এছাড়ার স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসা, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নদীর গর্ভে কিছু বিলিন হয়েছে। কিছু  বিলীনের পথে। ভাঙ্গনরোধে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৮৩ লাখ টাকার তাৎক্ষণিক কাজের বরাদ্ধ এসেছে। এই জন্য ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর হোসেন।
নদীতে বসতভিটা হারা আমাতুননেছা বলেন, নদী আমার ঘর ভিটা সব নিয়ে গেছে। আমি এখন কোথায় থাকমু কেমনে দিন কাটবো এক আল্লায় জানে। পানিতে আমার তিনডা গরুরও মারা গেছে।
ঈশনবালা বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম বেপারী বলেন, এবছর নদীর পানির তোড়ে বাজারের অনেক দোকান নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিন জোয়ারে পানি বাড়লে বাজারের দোকানদাররা চিন্তায় থাকে কখন না জানি তাদের দোকানপাট নদীতে চলে যায়।
ঈশানবালা বাজার জামে মসজিদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন সর্দার বলেন, আমাদের এলাকার মসজিদও মাদ্রাসাগুলো ভাঙ্গনের মুখে। নদী যেকোন সময় বাজারের মসজিদটি নিয়ে যাবে। সরকার ভাঙ্গনের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের দাঁড়ানোর মাটি থাকবে না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, আমার দোকানটি এ নিয়ে দুইবার স্থান বদল করেছি। নদী কিছু কিছু করে ভাঙ্গছে আমরা আরো ভিতরে চলে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *