হাজীগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে বখাটেদের উৎপাত,নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা 


শাখাওয়াত হোসেন শামীম :

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে বখাটেদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় ও কলেজগামী ছাত্রীদের লক্ষ্য করে শিস দেওয়া, অশালীন মন্তব্য, ইভটিজিং, অঙ্গভঙ্গি এবং প্রকাশ্যে ধূমপানসহ নানা কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে অনেক ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও সামাজিক হয়রানি ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান ফটক এবং আশপাশের চায়ের দোকানে একাধিক তরুণকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। আবার প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি এমন অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন। এ সময় আলাউদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,একটি ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে বখাটেদের আনাগোনা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পুলিশের টহল জোরদার এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়ায় হাজীগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকা,রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আশপাশ, পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মকিমাবাদে আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,টোরাগড়ে হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের আশপাশ এবং আলীগঞ্জ পিটিআই সংলগ্ন এলাকা,৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফায়ার সার্ভিস রোড থেকে নিখিল কমিশনারের বাড়ি রোড ও করিম বাগান সংলগ্ন এলাকা এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ রোড এলাকায় তরুণদের আড্ডা ও আনাগোনা দেখা গেছে।

এ ছাড়া বলাখাল বাজারের চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ও বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্নএলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবকদের অভিযোগ,মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো শিক্ষার্থী বখাটেদের প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে আরও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে পরিবারকে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করতেও সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন,অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের সামনেই বখাটেদের আড্ডা দেখা যায়। তারা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও সম্মান দেখায় না। বিষয়টি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে পারেন না। এ অবস্থায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিকদের মতে,শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। পুলিশের নিয়মিত টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে সচেতন করা গেলে বখাটেপনা ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে। চিহ্নিত স্থানগুলোতে নজর রাখা হচ্ছে।”

শেয়ার করুন