বালু উত্তোলনের জন্য কোন সুপারিশ নয়, অবৈধ ড্রেজার পেলে আটক করা হবে : ডিসি চাঁদপুর

চাঁদপুরে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর ) সকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এ সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন।

সভায় বালু উত্তোলন, মাদক, দূর্গাপূজা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এই আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা নানা বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তাদের বক্তব্যশেষে
সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, জেলার আইনশৃংখলার উন্নতি, জনগনের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন, অন্যান্য সমস্যাগুলোর সমাধান আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে করতে হবে। তিনি বলেন, আমি নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশকে বলছি আপনাদের নিজস্ব ইন্টিলিজেন্সকে সতর্ক করেন।আপনারা এই বালু উত্তোলন কারা করে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এখন থেকে বালু উত্তোলনকারী যেসব অবৈধ ড্রেজার পাবো তা আটক করবো। বালু উত্তোলনের জন্য কোনো প্রকার সুপারিশ আমরা গ্রহণ করবো না। এখানে আরো একটি বড় সমস্যা রয়েছে। চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জের নৌ সীমানা এখনো পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। এটা নিয়ে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। যতদিন নিষ্পত্তি না হচ্ছে সাংবাদিকসহ সবাইকে আমরা আমাদের এরিয়ার ভেতরে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। অনেক বছর যাবত চাঁদপুরের বালু ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথা হচ্ছে। বালু উত্তোলন যে নেই তা আমি বলবো না। এখনো অনেক জায়গায় বালু উত্তোলন হয়। আমার কথা হচ্ছে গত এক বছরে যত বাল্কহেড কিংবা ড্রেজার আটক হয়েছে সেগুলো কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে। যে মামলাগুলো হয়েছে তা আমাকে দেন। আমি দেখতে চাই আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো বাল্কহেড যাতে মালিকরা নিয়ে যেতে না পারে। আমরা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রন করতে পারছি না তবে আমরা বাল্কহেড, ড্রেজার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো বলে আশা করি। পাশাপাশি সকল উপজেলার ইএনওগণ এ ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি দিবেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে মাদক ব্যবসা বেড়ে গিয়েছে। গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। গত বেশ কয়েকদিনের মাদক আটকের হার আমাদের সেই বার্তাই দিচ্ছে। আবার যারা আটক হচ্ছে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। তাই আমাদের পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এ ব্যপারে নজর দিতে হবে বলে আমি মনে করি। আর হাজীগঞ্জ উপজেলায় আমরা যানজট দূর করেছি। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে অনেক ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা এবং সিএনজি অনেকটা ইচ্ছে করে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করার সুযোগ খুঁজছে। আমি পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ করবো।

তিনি আরও বলেন, সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন দূর্গাপূজাকে গুরুত্ব দিবেন। পূজায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এদিকে আমাদের সবার দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া শহরে কিংবা উপজেলায় যাতে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক থাকে। প্রতিমা বিসর্জন যাতে সময় মতো হয় এ নিয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। পুজায় আমাদের সেনাবাহিনীসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে। ধর্মকে পুঁজি করে যাতে কেউ গন্ডগোল ছড়াতে না পারে। আমার খুব খারাপ লাগে চাঁদপুরে প্রবাসী এক মুসলিম ছেলে ধর্ম নিয়ে একটা বাজে মন্তব্য করেছে। এই মন্তব্যে তার বিচারের জন্য তো প্রচলিত আইন আছে। কিন্তু তার ঘর বাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে, আগুন দিয়েছে। এটা খুবই দু:খজনক। তিনি বলেন, আরেকটা কথা বলি পূজায় দেখা যায় আপনাদের পূজা মন্ডপে উচ্চস্বরে গান বাজনা হয়। আমাদের মুসলমানদের ছেলেরাও বিভিন্ন উৎসবে একই স্বরে গান বাদ্য করে। কিন্তু কোনটাই ঠিক না।আমাদের এটা মেনে নিয়ে যথাসম্ভব সহনশীল হতে হবে। আপনারাও খেয়াল রাখবেন আশেপাশে অনেক বাচ্চা, অসুস্থ মানুষ আছে। তাদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন, চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, সেনাবাহিনীর চাঁদপুর জেলা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জাবেদ হাসান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মো: গোলাম জাকারিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সিভিল সার্জন ডা: নূরে আলম দ্বীন,্ এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক আবু আবদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশাহ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিমা আক্তার, আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট শাহজালাল ছোয়াদ, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ।

শেয়ার করুন