দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়লো রিকশাচালক জাকিরের স্বপ্ন: চাঁদপুরে নিঃস্ব এক পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর শহরের ষোলঘর বি.টি রোড এলাকায় গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে রিকশাচালক জাকির হোসেনের শেষ সম্বল চায়ের দোকানটি। গতকাল ২৬ মে (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ৩টার পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অসহায় এই দিনমজুর।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন এলাকায়। জীবিকার তাগিদে চাঁদপুর শহরে এসে তিনি রিকশা চালানোর পাশাপাশি ষোলঘর বি.টি রোডের রাশিদা হোটেলের পাশে আক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ছাপরি ঘর ভাড়া নেন। গত এক বছর ধরে তিনি সেখানে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। দিনভর রিকশা চালানোর পর রাতে এই দোকান ঘরটিতেই তিনি ঘুমাতেন। এটিই ছিল তার ও তার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
জাকির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো ২৬ মে রাতেও তিনি দোকান বন্ধ করে ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার পর একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত হঠাৎ তার দোকান ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় জেগে উঠে জাকির কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও, চোখের সামনেই পুড়ে খাক হয়ে যায় তার এতদিনের স্বপ্ন। দোকানে থাকা নগদ টাকা, মালামাল ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকির হোসেন বলেন:
“রিকশা চালাইয়া আর এই দোকানটা দিয়া কোনো রকমে পরিবার নিয়ে বাঁচি আছিলাম। আগুনে আমার সব শেষ হয়া গেল। আমি এখন এক্কেবারে রাস্তায় পইড়া গেলাম। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার আর একটু সহযোগিতা চাই।”
অসহায় এই রিকশাচালকের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং আয়ের একমাত্র উৎসটি হারিয়ে যাওয়ায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দারা এই কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।











