যুদ্ধ পরিস্থিতি থেমে গেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম কমে আসবে : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজনে উদ্যমী নারী এসএমই মেলার সেমিনার
অভিজিত রায় :
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, দ্রব্যমূল বৃদ্ধির কারণ বাংলাদেশের হাতে নেই। আমদানিকৃত দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেমে গেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম কমে আসবে। বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজনে উদ্যমী নারী এসএমই মেলার সেমিনার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যে মূল্যস্মৃতি, এটি আমাদানি মূল্যস্মৃতি। এখানে দ্রব্যমূল্যের দামবৃদ্ধি পেলে সরকারে কিছু করার নেই। তবে সরকারের যেটা করার রয়েছে, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে সরকার ব্যাট-ট্যাক্স উঠিয়ে দিয়েছে।
ন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশের উপর কর্মক্ষম নারী কর্মে নিয়োজিত আছেন, ভারতের চাইতেও বেশী। সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়ছে। বর্তমান সরকার সংসদে নারীদের আসন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে। বর্তমান সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় প্রথম আসার পর নারীর ক্ষমতায়নে বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করেছিলেন। গর্ভাবস্তায় যাতে একটি সুস্থ্য শিশু জন্ম নেয় তার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রচলন করা হয়।
এসএমমিই ফাইন্ডেশনের মাধ্যমে সরকার জামানত বিহীন স্বপল্প সুদে নারীদের কর্মমুখী করতে ঋণ দিচ্ছে।
উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে আমাদের আরও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। শিশু সেবা কেন্দ্র নেই তাই প্রচুর ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে ওঠা দরকার। কারন কর্মজীবী মায়েরা কাজের সময়ে তার সন্তানের যতœ নিতে পারে না। এর জন্য আপনাদের এহগিয়ে আসতেন পারেন। পর্যটন ক্ষেত্রে আমাদের মেয়েরা এগিয়ে আসছে না। চাঁদপুর পর্যটন শহর। সে ক্ষেত্রে আমাদের আরও এগিয়ে আসতে হবে বিশেষ করে নারীদের।
মন্ত্রী আরও বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক কর্মপরিকল্পনার কারণে দেশে নারী জাগরণ ঘটেছে। নারীদের এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবসম্যত উদ্যোগ। তার জন্য বর্তমান সরকারের কাজের অবদান বহুলাংশে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬৩ দেশের মধ্যে ৫০তম। বাল্য বিবাহ আমাদের ঠেকাতে হবে। বাল্য বিয়ে মানে শিশুর পেটে শিশু।
চাঁদপুরের উন্নয়ন কাজের প্রসঙ্গে বিশেষ করে পৌর এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পৌরসভার ভবনের স্থানটি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে পৌর এলাকা রাস্তাগুলো প্রসস্থকরন ও নতুনরাস্তার জন্য প্রকল্প দেওয়া যেতে পারে। কিনাতু দুখের বিষয় আট মাস হয়ে গেলেও আমি কোন উন্নয়নের জন্য প্রকল্প পাইনি। এখানে পৌর মেয়র উপস্থিত আছে স্নেহের জুয়েল নতুন প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠান দ্রæত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা আমি করবো। আমি সারাদেশের মন্ত্রী হলে চাঁদপুরে মানুষ হিসেবে চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলার উন্নয়নে আমার প্রাধান্য প্রথমে। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায় রয়েছে। আমার প্রচুর আন্তরিকা রয়েছে। আমি মানুষের উন্নয়ন চাই, আমার কোন গ্রæপ নেই।
চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরা আক্তারের সভাপতিত্বে মূলপপ্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রফিউদ্দিন আহমেদ।
চাঁদপুর ওইমেনস মেম্বার অব কমার্স এর সদস্য কবিতা সাহার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, দৈনিক আমাদের সময়ের সহ সম্পাদক সিনিয়র সাবিাদিক মিজান মালিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, সিনিয়র পুলিশ সুপার ইয়াছির আরাফাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, শিল্পচূড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সেলিম, উদ্যমী নারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মাতৃপীঠ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা আবু আপা, শারমীন আক্তার জুই ও জানমা আলম।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.