সদর হাসপাতালে বসছে আইসিইউ বেড, আসছে নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন

ইব্রাহীম রনি :
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জন্য এবার আসছে একটি নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। এটি হাসপাতালে স্থাপিত হলে স্বল্প মূল্যে এক্স-রে সেবা পাবে রোগীরা। চাঁদপুরবাসীর জন্য এ সুখবরটি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
এদিকে চাঁদপুরবাসীর জন্য বরাদ্দ প্রাপ্ত ৩টি আইসিইউ বেড বসানো হচ্ছে ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভবনের ভেতরেই। আপাতত করোনা রোগীদের চিকিৎসার আইসোলেশন ওয়ার্ডের একটি কক্ষেই আইসিইউ বেডগুলো স্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, আইসিইউ বেডগুলো বসানোর জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। জায়গা নির্ধারণ হয়ে গেলে বেডগুলো ইনস্টল করতে হবে। জনবলের জন্য চাহিদা দিতে হবে। জনবল সেটআপ হলে আইসিইউ বেডগুলো চালু হবে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ভেতরেই বেডগুলো বসানো হবে। আইসোলেশন ইউনিট অথবা যে কোন একটি ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা করে নিতে হবে। অন্য জায়গায় বসাতে গেলে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এখন আপাতত হাসপাতালের ভেতরেই যে কোন একটি রুমে সেট করতে হবে। পরবর্তীতে বেড বাড়লে নতুন করে ভবন নির্মাণ করবে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বেডগুলো হাসপাতালেই বসানো হবে যেখানে অক্সিজেন লাইন টানা আছে। আর এগুলো পরিচালনার জন্য ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজনীয় ম্যানপাওয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, যে কোম্পানি থেকে বেড তারা এসে এগুলো সেট করে দিবে। ঢাকা থেকে লোক এসে ট্রেনিং দিবে। এরপরই এগুলো চালু করা হবে।
তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বেডগুলো এনে দিয়েছি। বাকী কাজটুকু ওনাদেরকেই করতে হবে।
নতুন সুখবর জানিয়েছে জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন চেয়েছিল। আমি ঢাকায় যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে আমাকে বলা হয়েছে- লোক পাঠিয়ে দিলে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি দিয়ে দিবে। আশাকরি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সেটিও চাঁদপুরে চলে আসবে।
চাঁদপুরবাসীর জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৩ টি আই সি ইউ বেড,১০ টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর,৫টি ন্যাজাল কেনোলা ও ৫০০ টি পিপিই যথাযথভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার ও অধিষ্ঠানকরণের উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সভা করে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. জামাল সালেহ উদ্দিন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত ও শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত ১৩ এপ্রিল ৩টি আইসিইউ বেড, ১০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ৫টি ন্যাজাল কেনোলা ও ৫শ’ টি পিপিই বরাদ্দ দেয়া হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এর একান্ত প্রচেষ্টায় অবশেষে ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার এই বরাদ্দ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে লকডাউন বাস্তবায়ন সম্পর্কিত এক সভায় জেলা প্রশাসক নিজেই এই আনন্দের সংবাদ জানান। অবশ্য এই আইসিও আসার পেছনে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এমপি মহোদয় তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, তা তিনি তার ডিসি ফেইজবুক পোষ্টে উল্লেখ করেছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *