৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ন্যাক্কারজনক ঘটনা

প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন ::
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক দিবস ৩ নভেম্বর ১৯৭৫। সেদিন বাংলাদেশ হারিয়েছিল দেশের সূর্য সন্তানদের আর আমরা হারিয়েছি দেশের চারজন শ্রেষ্ঠ বীর ও প্রিয় নেতাদের। এই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাতের অন্ধকারে জাতীয় চার নেতা ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহ্মেদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও কৃষিমন্ত্রী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা জেলখানায় হত্যা করা হয়। এই চার নেতা ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের শ্র্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার পর জাতীয় এ চার নেতাকে কারাগারে বন্দী করা হয়। যে কারাগারে পৃথিবীর সব মানুষ নিশ্চিত নিরাপত্তা পায়, সেই কারাগারেই ঘাতকদল এই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ১৯৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের প্রহসন শেষে মীরজাফরের নির্দেশে মোহাম্মদ আলী বেগ কর্তৃক বন্দী নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতা এবং নৃশংসতার এমন নজির আর নেই।
আওয়ামী লীগের জাতীয় চার নেতার অনাকাক্সিক্ষত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতি বছর ৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দল দিনটিকে জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন রক্তঝরা এই জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশে যে কয়টি দিন চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, ৩ নভেম্বর তার একটি । যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার একটি ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং একই সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের নের্তৃৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ম্লান করে দেয়ার একটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদর্র্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুর্নগঠন, মাত্র নয়মাসের মধ্যেই সংবিধান প্রণয়ন, সাধারণ নির্বাচন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, ওআইসি সদস্যপদ লাভ, চীন ও সৌদি আরব ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন প্রভৃতি কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সফল নের্তৃত্বের প্রতিশোধ। আসলে হত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্থান ভাঙ্গার প্রতিশোধ নেয়া, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করা এবং পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করে বাংলাদেশের মধ্যে একটি মিনি পাকিস্থান টিকিয়ে রাখা।
বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এবং দেশীয় শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের নীলনকশার বাস্তবায়ন ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড। বিশ্বের বিবেকবান মানুষ এই ঘটনায় হতবুদ্ধি হয়ে যায়। যে নের্তৃবৃন্দ জীবনের বেশীরভাগ সময় দেশ ও জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন বারবার, দখলদার বাহিনী যাঁদের হত্যা করার সাহস পায়নি অথচ দেশীয় শত্রুরা ক্ষমতা ও অর্থের মোহে দখলদার বাহিনীর হয়ে স্¦াধীনতার নায়কদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাদের উপযুক্ত বিচার করেই দেশ এই নির্লজ্জতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শক্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরে পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ থেকে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল যার গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক কমিটি ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন রোজ গার্ডেন এ নতুন দল গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক সম্মেলন আহ্Ÿান করে। প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সহসভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের জনাব শামসুল হক। শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোষাধ্যক্ষ হন ইয়ার মোহাম্মদ খান। এসময় শেখ মুজিব কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর তাঁকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। উল্লেখ্য, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিলো তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বসহ ৪২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। শুরুর দিকে দলটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি, এক ব্যক্তির এক ভোট, গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণ। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে আওয়ামী মুসলিম লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর দলটি কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮-১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এরমধ্যে ১৪৩টি আসন পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ।
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালে দলে ভাঙন দেখা দেয়। ওই বছরের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারি সম্মেলন-এ দলে বিভক্তির ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় মাওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৬৬ সালে পাঁচ ও ছয়-ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ছয়দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ছয়দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ছয়দফার সমর্থনে সর্ব প্রথম চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীর পাড়ে চট্টগ্রামে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর তৎকালীন বৃহত্তর চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এক দফার প্রবক্তা জননেতা এম এ আজিজের নের্তৃত্বে প্রথম প্রকাশ্যে সভা করেন বঙ্গবন্ধু। সেই সভায় এম এ আজিজ ঘোষণা করেন যে ছয় দফা না মানলে এক দফার আন্দোলন চলবে, সেটা হচ্ছে স্বাধীনতার আন্দোলন। ছয়দফা বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল- (ক) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংহত করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সমুন্নত রাখা (খ) প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা (গ) রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা (ঘ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং (ঙ) বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট-সরকার গঠন করে। গণআন্দোলন ও আইয়ুবের পতনের পটভূমিতে ‘৭০ এর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আইনসভায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭ আসন পায় আওয়ামী লীগ, এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০ আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে সরকার গঠনে ও শাসনতন্ত্র প্রণনের যোগ্যতা অর্জন করে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানানোর পরিবর্তে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বাঙালির অধিকার নস্যাৎ করার পথ বেছে নেয়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও শোষণের ফলস্বরূপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

৭৫এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশকে পুরোপুরি নের্তৃত্ব শূন্য করার পরিকল্পনা নেয় ঘাতকরা আর তাই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তখনকার আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান ৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সেই রাতে কারাগারে প্রবেশ করে। খন্দকার মোশতাক চার নেতার নাম টেলিফোনে জানিয়ে দেয়ার পর ঘাতকরা তাঁদেরকে নিউ সেলে জড়ো করে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের ২ দিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে জাতীয় নেতাদের লাশ সেনা পাহারায় হস্তান্তর করে। তখনকার ডিআইজি প্রিজন কাজী আবদুল আউয়াল ৩রা নভেম্বরেই লালবাগ থানায় অনেকটা গোপনে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। অভ্যুত্থানকারীরা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই হত্যাকারীরা পরে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারগুলো থেকে পরোক্ষ সহযোগিতা লাভ করে। প্রতি বছর ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা স্বরণে শোক দিবস পালন করা হয়। তাঁদের হত্যাকাণ্ডের বিশদ ইতিহাস এবং কী তাঁদের অপরাধ ছিল আজও তা জানা যায়নি। বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলব হিসেবে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল তাদের নাম সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ও বিচার কার্য শুরু হয়েছে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারই তাঁর প্রকৃত বিচার শেষ করে দেশকে কলন্কমুক্ত করতে পারে।
লেখক: প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন, পরিচালক, নায়েম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *