আল-আমিন একাডেমির বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শনে মাউশি পরিচালক

অর্থনীতি ও বিজ্ঞান শক্তিশালী করতে শিক্ষার বিকল্প নেই

মাউশি পরিচালক প্রফেসর মো: শহিদ উল্লাহ মজুমদার

নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. শহিদ উল্লা মজুমদার।

তিনি বলেছেন, বিজ্ঞান ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাডেমির অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) মো. শফিকুল ইসলাম এবং চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম। এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুরান বাজার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী আক্তার, আলামিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমিন ও ছাত্রী ক্যাম্পাসের ইনচার্জ ফারজানা আক্তারসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তারা। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মেধার প্রশংসা করে মাউশি পরিচালক বলেন, সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প এবং তাদের কল্পনাশক্তি তাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রফেসর মো. শহিদ উল্লা মজুমদার বলেন, “তোমরাই এ প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম। তোমরাই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী মানব। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, তোমরাই সুপারম্যান এবং সুপারওম্যান।”

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বর্তমানে শিক্ষা ও বিজ্ঞান নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় পুরো পৃথিবী এখন শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয়। শিক্ষার্থীদের চিন্তা, কল্পনা ও মেধার বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।

মাউশি পরিচালক বলেন, “সারা পৃথিবীতে আজ শিক্ষা নিয়ে চ্যালেঞ্জ। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে সারা পৃথিবীর অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে শিক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান—দুটোই যদি শক্তিশালী হয়, একটা দেশকে আর পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয় না।”

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে তিনি বলেন, “পিতামাতা তোমাদের জন্ম দিয়েছেন, আর শিক্ষকরা তোমাদের যোগ্যতম নাগরিক হিসেবে দেশের সম্পদে পরিণত করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অতএব, শিক্ষক অসম্মানিত হলে জাতি অসম্মানিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে আসার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মাউশি পরিচালক। শিক্ষার মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সামনের সারিতে নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শন শেষে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শেয়ার করুন