বঙ্গবন্ধু, ৭ মার্চ এবং বাংলাদেশ

মারুফা সুলতানা খান হীরামনি ::
শেখ মুজিবুর রহমান, যার জন্ম ১৭ই মার্চ, ১৯২০; তারপর আসে ৭ মার্চ, ১৯৭১ এবং একটি দেশ বাংলাদেশ, স্বাধীনতা অর্জন করে ২৬ মার্চ ১৯৭১।
বঙ্গবন্ধু, ৭ মার্চ এবং বাংলাদেশ – অপূর্ব মেলবন্ধন। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্ভব। যার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ি সেই দেশ মাতা বাংলাদেশ; এবং সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা মুজিব, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এসকল কারণে তাকে বাংলাদেশের “জাতির জনক” বা “জাতির পিতা” হিসেবে গণ্য করা হয়।আর তিনিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি দেশ মাতাকে আমাদের কাছে স্বাধীনরূপে এনে দিয়েছেন, এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। একটি ভাষণ কীভাবে একটি দেশের স্বাধীনতা এনে দিতে পারে তা বুঝার জন্য সারা পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ৭ মার্চের ভাষণের উজ্জীবনী শক্তির কারণে বাংলার আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশকে স্বাধীন করার জন্য, এবং ৭ মার্চের ভাষণ সফল, সফল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, দিনমজুর, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, নারী, পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্ব স্মৃতির আন্তর্জাতিক নিবন্ধন হিসেবে ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পৃথিবীর ১২ টি জনপ্রিয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে। এই ভাষণের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘নিউজউইক’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “রাজনীতির কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বীকৃতি দিয়েছে।
“ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।”- এই বাক্যটি দিয়ে শুরু হওয়া ভাষণ শেষ হয় ” এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা, জয় বাংলা।” -বাক্যের মাধ্যমে। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে কীভাবে শক্তি সঞ্চার করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হয় তা বাংলাদেশের মানুষজনকে শিখিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অমীয় বাণী ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটির মাধ্যমে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকেও শক্তি সঞ্চার করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে পুঁজি করে বাংলাদেশ পার করছে মাইলফলকের পরে মাইলফলক।
উল্লেখ্য, এই মুজিববর্ষে এবারই প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।


লেখক পরিচিতি: মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, সহকারী কমিশনার ( ভূমি), সালথা উপজেলা, ফরিদপুর

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *