আজ ২৫ বৈশাখ : কবিগুরুর ১৬০তম জন্মবার্ষিকী
চাঁদপুর প্রতিদিন ডেস্ক :
‘রাত্রি হল ভোর।/আজি মোর/জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী,/প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি/হাতে করে আনি/দ্বারে আসি দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’ নিজের লেখা কবিতায় নিজের জন্মদিনের সকালকে এভাবেই দেখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- বাঙালি যাকে ভালোবেসে ডাকে ‘কবিগুরু’। শিল্প-সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রে আমৃত্যু নিজের কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বহমান রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছেন বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসের পথিকৃৎ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি দিয়ে গেছেন নতুন নির্দেশনা। আজ পঁচিশে বৈশাখ- বাংলার ঘরে ঘরে আলাদা আসন পেতে বসা সেই কবিগুরুর ১৬০তম জন্মবার্ষিকী আজ।
বিশ্বকবির জন্মের পর পেরিয়েছে ১৬০ বছর, তিনি পৃথিবী ছেড়েছেন প্রায় ৮০ বছর; এর পরও তিনি বাঙালির জন্য অপরিহার্য ও প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল বাঙালির আনন্দ-বেদনা, উৎসব-অভিলাষে প্রতি মুহূর্তের অনুসঙ্গীই নন- সংকটের সাহস, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রেরণাও। এ জন্যই তার জন্মদিন শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছেই এক আনন্দঘন উৎসবের দিন।
কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত জমিদার পরিবারে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) এই দিনে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছিলেন ঠাকুরবাড়ির বিখ্যাত জমিদার বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মা সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশতম সন্তান। তার রচনা পরিমাণে যেমন, তেমনি প্রকরণেও বিপুল এবং বৈচিত্র্যময়। শেষজীবনে চিত্রকলায় মনোনিবেশ করে সেখানেও রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। ভারতীয় চিত্রকলায় আধুনিকতার ধারণাকে উর্বর করেন তিনি। ‘গীতাঞ্জলি’ রচনার জন্য ১৯১৩ সালে তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই পুরস্কারের টাকায় এ দেশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দিতে তিনি কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন, গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন।
বার বার সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতার ঘোষণা দিয়েছেন সমাজসচেতন রবীন্দ্রনাথ। রাজপথে নেমে এসেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে, পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছুড়ে ফেলেছেন ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি। তিনি পৃথিবীর একমাত্র গীতিকার, যার রচিত তিনটি গানকে ভিন্ন তিনটি দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয়। তার রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশে, ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ ভারতে এবং ‘নমো নমো মাতা’ শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীত হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত।
কবির জন্মদিন উদযাপন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন প্রথম উদযাপন করা হয় ১৮৮৭ সালে। আয়োজন করেন কবির ভাগ্নি সরলা দেবী। তখন কবির বয়স ২৬ বছর। সরলা দেবী তার বই ‘জীবনের ঝরাপাতা’য় লিখেছেন, ‘রবিমামার প্রথম জন্মদিন উৎসব আমি করাই। … অতি ভোরে নিঃশব্দে বাড়ির বকুল ফুলের নিজের হাতে গাঁথা মালার সঙ্গে অন্যান্য ফুল ও একজোড়া ধুতি চাদর তাঁর পায়ের কাছে রেখে প্রণাম করে তাকে জাগিয়ে দিলাম।’ এরপর বাড়িতে সেদিন তার জন্মদিন উদযাপিত হয়। পরে ১৯১০ সাল থেকে শান্তিনিকেতনের আশ্রমিকেরা নিয়মিত কবির জন্মদিন উদযাপন করে এসেছেন। ১৯৩১ সালে কবির ৭০ বছর বয়সে ঘটা করে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়। সে অনুষ্ঠান কমিটির সভাপতি ছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু, মূল উদ্যোক্তা অমল হোম। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ‘ঞযব এড়ষফবহ নড়ড়শ ড়ভ ঞধমড়ৎব’ নামের সংকলন।











