৮ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা করলো অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েলের কিউআরসি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘তিনি পারবেন। চাঁদপুর পৌরবাসীর স্বপ্ন তাঁর দ্বারা বাস্তবায়ন হবে ইনশালাহ। যাঁর মাথা থেকে অভিনব, নতুনত্ব এবং ক্রিয়েটিভ কিছু চিন্তা-ভাবনার উদ্ভব ঘটে, তিনিই পারবেন চাঁদপুর পৌরসভাকে সকল দিক দিয়ে দেশের মধ্যে একটি অনন্য পৌরসভা হিসেবে রূপ দিতে। করোনা ভাইরাসজনিত অনির্দিষ্টকালের এ মহাদুর্যোগের সময় যে মানুষটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, বিনামূল্যে জরুরি ওষুধ সেবাসহ সাতটি সেবা প্রত্যাশীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, সে মানুষটি একজন প্রকৃত মানবপ্রেমীই হবেন, সেটিই প্রমাণিত হলো’ অ্যাডঃ জিলুর রহমান জুয়েলকে নিয়ে এমনই অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো চাঁদপুর পৌরবাসী।
করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ মোকাবেলায় শুরু থেকেই চাঁদপুরে একটি মাত্র সেবামূলক সংগঠন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির নাম হলো কিউআরসি (কুইক রেসপন্স ডিউরিং ক্রাইসিস)। যার প্রতিষ্ঠাতা চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েল।
২৫ মার্চ তখন চাঁদপুরে করোনায় কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে আতঙ্কে ছিলো সবাই। ঠিক সে সময় চাঁদপুর পৌরবাসীর কথা মাথায় রেখে তাদের সর্বাত্মক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গঠন করেন কিউআরসি। যে সংগঠনটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দিনরাত মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে, বাসায় খাবার, ওষুধ, বাজার পৌঁছে দিচ্ছে। বিরতিহীনভাবে চলতে থাকা এ কার্যক্রমের আওতায় গত ১৬ মে পর্যন্ত চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে ৮ হাজার ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়। প্রতি পরিবারের জন্যে দেয়া হচ্ছে চাল, ডাল, তেল ও আলু। শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, জরুরি আরো ছয়টি সেবা দেয়া হয় কিউআরসি থেকে। গত ১৬ মে পর্যন্ত হট লাইন নাম্বারে কল দিয়ে ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করে ২৫৫০ জন, ১ হাজার ৬০ জনকে জরুরি ঔষধ সেবা, ৫শ’ ৯০ জনকে জরুরি পরিবহন সেবা, ৪শ’ ১৮ জনের বাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে বাজার পৌঁছে দেয়া, ২শ’ ২৫ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া এবং ২শ’ ৬৮ জনের বাসায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে লোড সার্ভিস দেয়া হয়। যা চাঁদপুর জেলাসহ বাংলাদেশের মধ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কোন সরকারি সাহায্যের আসায় বসে না থেকে অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েলের নিজস্ব উদ্যোগে ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু করেন কিউআরসি। গত ২০ মার্চ থেকেই কার্যক্রম শুরু করার ইচ্ছা থাকলেও ২৫ মার্চ থেকে চাঁদপুর বাইক রাইডার্সসহ মাঠে নেমে পড়েন সকলে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আরো শ’ খানেক ভলান্টিয়ার যুক্ত হয় কিউআরসি টিমে।
কিউআরসি-এর মাধ্যমে জনগণের দরজায় সেবা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে একদল তরুণ। কিউআরসি-এর হটলাইনে থাকা নাম্বারে কল দিয়ে নিজের প্রয়োজন বলা মাত্রই ঘরে পৌঁছে যায় বিনামূল্যে ঔষধ, অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী এবং ডাক্তারি সেবা। শুধু তাই নয়, করোনায় ঝুঁকি এড়াতে যারা ঘরে আছেন তাদের প্রয়োজন মতো বাজার কিংবা প্রি-পেইড মিটারে লোডসহ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছে কিউআরসি টিম।
এরকম একটি মহতী উদ্যোগের কারণে সর্বমহলে প্রশংসিত হন অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েল। চাঁদপুরের বহু বিত্তবান ও সমাজসেবী থাকলেও তিনি সর্বপ্রথম জনগণের সেবায় এগিয়ে আসেন। ২৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কিউআরসি বাংলাদেশে প্রথম। শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল নাম্বারটি উন্মুক্ত করে দেন অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েল। যতজনই মোবাইল নাম্বারে কল দিয়েছেন প্রত্যেকেই খুবই দ্রুত সেবা পেয়েছেন। কিউআরসি টিম ছাড়াও অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েলের উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার লোকের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাড. জিলুর রহমান জুয়েল বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চাঁদপুর পৌরবাসী এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির দিক নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের কিউআরসি টিম আপনাদের সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি মানুষ এতে উপকৃত হচ্ছে। কিউআরসি টিমের সদস্যরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মানুষজনকে সচেতন করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী মারা গেলে তারও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছে কিউআরসি টিম।










