ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। লাখো মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে মহান নেতা শেখ মুজিব বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। বঙ্গবন্ধুর এই বলিষ্ঠ ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। এর আগে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি নিজেদের মত করে পালন করে এলেও গত বছর (২০২১) রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। সরকার ক-শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। অবশ্য এজন্য এক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আসে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য একটি ই-পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। ই-পোস্টারের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ই মার্চ দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম জনযুদ্ধে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক এই ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্ত আর ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে এবং বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণার অনির্বাণ শিখা হয়ে অফুরন্ত শক্তি ও সাহস যুগিয়ে আসছে। এ ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় করিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়াও এ ভাষণটি পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদের পঞ্চম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে জ্যাকব এফ ফাইল্ড (Jacob F. Field) প্রকাশিত ২৫০০ বছরের বিশ্বসেরা যুদ্ধকালীন ভাষণের সংকলন উই শ্যাল ফাইট অন দ্যা বিচেস; দ্যা স্পিচ দ্যাট ইনস্পায়ার্ড হিস্টোরি (We shall Fight on the Beaches: The Speeches That Inspired History)-এ এই ভাষণ অন্যতম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার ভোর সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল আটটায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভায়। এতে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করবেন।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি :
“ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ” যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : ৬-৭ মার্চ রাত্রিকালীন জেলার এন্ট্রি পয়েন্ট/জিরো পয়েন্ট/গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জা। ৭ মার্চ সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ”-এর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) অনলাইনে যুক্ত হয়ে উপভোগ, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। এছাড়া সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী এবং জনবহুল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডকুমেন্টারী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি :
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এক বিশাল জনসমুদ্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রূপরেখা ঘোষণা করেন এবং জাতিকে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজ জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বিকাল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান। বাদ আছর মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান ও তাবারক বিতরণ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠন তথা সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.